SIR (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়ায় নথি যাচাই নিয়ে এবার স্পষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করল নির্বাচন কমিশন। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, নথি আপলোডের ৫ দিনের মধ্যেই যাচাই শেষ করতে হবে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে। সময়সীমা পেরোলে বিলম্বের দায়ও সংশ্লিষ্ট স্তরের উপর বর্তাবে—এমনটাই ইঙ্গিত কমিশনের।
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, বুথ লেভেল অফিসাররা (BLO) ভোটারদের নথি BLO অ্যাপের মাধ্যমে আপলোড করবেন। এরপর সংশ্লিষ্ট DEO বা জেলা শাসক সেই নথি পাঠাবেন উপযুক্ত দফতরে যাচাইয়ের জন্য। যদি নথিটি একই জেলার হয়, সেখানেই যাচাই সম্পন্ন হবে।


অন্য জেলার সঙ্গে যোগ থাকলে—যেমন উত্তর ২৪ পরগনার নথির সঙ্গে পূর্ব মেদিনীপুরের সম্পর্ক—তবে নথিটি সেই জেলার DEO-র কাছে পাঠানো হবে। আর যদি নথি অন্য রাজ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়, সেক্ষেত্রে তা পাঠানো হবে ওই রাজ্যের CEO (Chief Electoral Officer)-র দফতরে। সব ক্ষেত্রেই ৫ দিনের মধ্যে যাচাই শেষ করা বাধ্যতামূলক।
এই নথি যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আগেই প্রশ্ন উঠেছিল। বিশেষ করে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে আপত্তি জানানো হয়। দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও বিষয়টি নিয়ে সরব হন। কয়েক দিন আগে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিরা রাজ্যের CEO দফতরে গিয়ে পাঁচ দফা দাবিপত্র জমা দেন।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ভোটার তালিকায় নাম, বয়স বা ঠিকানার অসঙ্গতি ধরা পড়তেই নতুন করে এই সংশোধন ও যাচাই প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কমিশনের লক্ষ্য, দ্রুত কিন্তু নির্ভুল যাচাই—যাতে ভুল সংশোধনের সুযোগ থাকে, আবার অযথা দীর্ঘসূত্রিতাও না হয়।


তবে কমিশনের নির্ধারিত এই ৫ দিনের সময়সীমা বাস্তবে কতটা কার্যকরভাবে রূপায়িত হয়, তা নিয়েই এখন নজর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আরও নির্দেশিকা জারি হবে কি না, সেদিকেও তাকিয়ে সংশ্লিষ্টরা।







