নজরবন্দি ব্যুরো: ‘মহালয়া’ থেকেই দুর্গোৎসবের সূচনা। বলা হয় পিতৃপক্ষের অবসান, মাতৃপক্ষের শুরু। প্রতি বছর মহালয়ার (Mahalaya) ভােরে আকাশবাণী কলকাতা কেন্দ্রের বিশেষ অনুষ্ঠান ‘মহিষাসুরমর্দিনী’-তে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রর কণ্ঠে স্তোত্র-পাঠ বাংলা ছাড়িয়ে ভিন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে। স্তােত্র-পাঠ জানিয়ে দেয় দুর্গাপুজো তথা শারদোৎসবের সূচনা হয়ে গেল। যেদিন থেকে মহালয়ার ভােরের এই স্তাব-পাঠ, সেদিন থেকে জনমানসে এই ধারণা হয়েছে যে, সত্যি-সত্যিই যেন পুজোর সূচনা হয়ে গেল।
আরও পড়ুন: এবারের পুজোয় ছায়াছবির পঞ্চব্যঞ্জন, আসুন দেখেনি কি কি সিনেমা
দুর্গোৎসবের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত আছে। এক — মহালয়া, দুই — বােধন, তিন — সন্ধিপুজো। মহালয়া তিথিটিকে বলা হয়েছে দুর্গোৎসবের প্রস্তুতিপর্ব। হিন্দুধর্ম যে কোন শুভ কাজে যেমন বিয়ে, উপনয়ন ইত্যাদিতে কাজের আগে নান্দীমুখ শ্রাদ্ধ করতে হয় তেমন মাতৃ আরাধনার আগে পূর্বপুরুষদের স্মরণ করে তিলজল নিবেদন করতে হয়। এর মূলে রয়েছে বিশ্বাস— কেউ মারা গেলেও তাঁর আত্মার মৃত্যু হয় না। আত্মার বিনাশ বা ক্ষয় নেই। পিতৃপুরুষের আত্মার তৃপ্তি সাধনের জন্য মহালয়ার তর্পণ-শ্রাদ্ধ। ঘাটে ঘাটে তর্পণ করা হয় ।

বাঙালির কাছে মহালয়া কি? জানুন এর ঐতিহ্য

এদিন, কাক, কুকুর, বিড়ালদের খাওয়ানোর রীতি আছে । এই বিশেষ দিনে ব্রাহ্মণদের বস্ত্রদানও করা হয় । মহালয়া দিনটির আরও একটা তাৎপর্য রয়েছে । অশুভ শক্তির বিনাশ,মন্দের উপর ভালর জয়কে তুলে ধরার জন্য মহালয়া । তর্পণ-শ্রাদ্ধ শেষ করেই দেবী পক্ষের দিকে এগিয়ে যাওয়া। মহালয়া হলাে পিতৃপক্ষের শেষ ও দেবীপক্ষের শুরুর সন্ধিক্ষণ। বলা যায় মহালয়া দেবীপক্ষের শুরু। লােক বিশ্বাস, কৈলাস থেকে দেবী দুর্গা নাকি মহালয়া থেকে বাপের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। কাজেই মহালয়া তিথিটি বিশেষ স্থান অধিকার করে নিয়েছে দুর্গা পুজাের ক্ষেত্রে।



