বিধানসভার স্বাক্ষর জালিয়াতি বিতর্ক ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ল। সোমবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করলেন, বিরোধী শিবিরের একাধিক বিধায়কের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই কয়েকজন বিধায়ক লিখিতভাবে জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট নথিতে থাকা স্বাক্ষর তাঁদের নয়। এই ঘটনায় আইনি পদক্ষেপের ইঙ্গিতও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী জানান, স্বাক্ষর জাল সংক্রান্ত অভিযোগের সূত্রপাত হয়েছিল বিরোধী দলেরই দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহার অভিযোগ থেকে। তাঁদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই বিষয়টি বিধানসভার স্পিকারের নজরে আসে এবং পরবর্তী সময়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, তদন্তের দায়িত্বে রয়েছে সিআইডি এবং এই তদন্ত সম্পূর্ণভাবে অভিযোগের ভিত্তিতে এগোচ্ছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে তদন্তে কোনও হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে না বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।
শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য অনুযায়ী, মোট ১৪ জন বিধায়কের স্বাক্ষর নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাঁদের মধ্যে অন্তত তিনজন ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, বিতর্কিত নথিতে থাকা স্বাক্ষর তাঁদের নিজের নয়। ফলে জালিয়াতির অভিযোগ আরও গুরুত্ব পাচ্ছে বলে মনে করছে প্রশাসন।
এই প্রসঙ্গে বিরোধী দলকে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি মুখ্যমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, নির্বাচনে পরাজয়ের পরেও বিরোধী শিবিরের একাংশের রাজনৈতিক আচরণে কোনও পরিবর্তন আসেনি। যদিও এই মন্তব্যের জবাবে বিরোধী দলের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।
স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই সিআইডি তদন্ত শুরু করেছে। একাধিক বিধায়ককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিস পাঠানো হয়েছে। তদন্তকারীরা সংশ্লিষ্ট নথি, স্বাক্ষরের নমুনা এবং অভিযোগকারীদের বক্তব্য খতিয়ে দেখছেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত কোনও নথিতে স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা অত্যন্ত গুরুতর বিষয় হিসেবে বিবেচিত হবে। তাই তদন্তের অগ্রগতি এবং সিআইডির পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে।
এখন দেখার, তদন্তে নতুন কী তথ্য সামনে আসে এবং অভিযোগের সত্যতা কতটা প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে এই বিতর্ক যে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ বাড়িয়েছে, তা বলাই যায়।



