শ্যামাপ্রসাদ গড়াই মামলায় অস্বস্তিতে রাজ্য, মুচলেকা দিতে বাধ্য হলেন স্বাস্থ্যসচিব

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরো : শ্যামাপ্রসাদ গড়াই মামলায় অস্বস্তিতে রাজ্য, নজিরবিহীন ঘটনার মুখোমুখি হতে হল রাজ্যসরকারকে। বুধবারই কলকাতা হাইকোর্টের ভরা এজলাসে মুচলেকা দিতে হল রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরুপ নিগমকে। বাঙ্গুর হাসপাতালের প্রাক্তন ডিরেক্টর শ্যামাপ্রসাদ গড়াই-এর বকেয়া অর্থ না মেটানোয় বিচারপতি সৌমেন সেন এবং বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চে মুচলেকা দিতে বাধ্য হল, রাজ্যের স্বাস্থ্যসচীব।

আরও পড়ুনঃ হবু শিক্ষকদের অবস্থানে পুলিশি অভিযান! মধ্যরাতে তোলপাড় তিলোত্তমা।

বুধবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি সৌমেন সেন রাজ্যের স্বাস্থ্য সচীবের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন তুলে বলেন, ডাক্তার শ্যামাপ্রসাদ গড়াই-এর বকেয়া টাকা মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে কিনা! তাঁর উত্তরে স্বাস্থ্যসচিব বলেন, হ্যাঁ বকেয়া টাকা সমস্ত মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এবিষয়ে আইনজীবী শামিম আহমেদ ও অর্ক মাইতি আদালতকে জানান, স্বাস্থ্যসচিব ঠিক বলছেন না। ২০১১-পর থেকে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পাশাপাশি হাসপাতালে আচমকা পরিদর্শন করতে শুরু করেছিলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যেপাধ্যায়। আবারও গতবছরই লোকসভার ফল ঘোষণার মাসেই বাঙুর পরিদর্শনে যান মুখ্যমন্ত্রী।

আর ঠিক এইসময়েই সংবাদমাধ্যমের পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রীর সদলবলে হাসপাতালে ঢুকে পরা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন, বিআইএন-এর তৎকালীন ডিরেক্টর শ্যামাপ্রসাদ গড়াই। মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী এলে কোনো সমস্যা নেই। তবে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে প্রচুর মানুষ হাসপাতালে ঢুকে যাচ্ছে আর এতেই রোগী পরিষেবায় সমস্যা হচ্ছে। তারপরই মুখ্যমন্ত্রী পরেরদিনই তাঁকে সচিবালয়ে ডাকেন। এরপরই ২৬ মে সন্ধ্যেতেই বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের প্রধানদের নিয়ে বৈঠক করেন।

আর সেইখানেও হাজির হতে পারেননি ডাক্তার গড়াই। তারপরই তাঁকে সাসপেন্সনের চিঠি পাঠানো হয়। তারপরই বিভাগীয় তদন্তের বিজ্ঞপ্তি জারি হয়। আর তদন্ত এই কদিনে একচুলও এগোয়নি। তা্র চাকরির মেয়াদ বেড়ে ৩১ মার্চ ২০১৪ কারা হলেও তদন্ত এগোয়নি। শেষমেশ ২০১৯শে ২৪ এপ্রিল ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, কারোর অবসরের পর যে কোনো অভিযোগে তদন্ত চালানো অধিকার সরকারের নেই।

শ্যামাপ্রসাদ গড়াই মামলায় অস্বস্তিতে রাজ্য, অবলম্বে পূর্ণ পেনশন চালু করতে হবে এবং সমস্ত বকেয়া ৮ শতাংশ সুদ সহ মিটিয়ে দেওয়ার জন্য রাজ্যকে নির্দেশ দেয় আদালত। এরপরই বুধবার, বকেয়া টাকার পেনশনের মৌলিক অধিকার থেকে সরকারের নেই বলে সাওয়াল করে বিকাশরঞ্জনরা। আর হাইকোর্ট সেই যুক্তিকেই মান্যতা দিয়েছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত