বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড ও হিংসার ঘটনায় এবার সরব হলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইউনুস সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়েই শাসন চলছে। এর জেরেই বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র ভেঙে পড়ছে এবং সংখ্যালঘুরা ক্রমশ আরও অসুরক্ষিত হয়ে উঠছেন।
এক সাক্ষাৎকারে হাসিনা বলেন, “দীপু চন্দ্র দাসের হত্যাকাণ্ডই প্রমাণ করে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা কতটা বিপদের মধ্যে রয়েছেন। ২০২৪ সালের অগস্ট থেকেই হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, আহমাদিয়া মুসলিম এবং আদিবাসীদের উপর লাগাতার অত্যাচার চলছে। ইউনুস সরকার ভয় দেখিয়ে শাসন করার জন্যই এই পরিবেশ তৈরি করেছে।”
‘কট্টরপন্থীদের রাজনৈতিক সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে’
হাসিনার অভিযোগ, জামাতে ইসলামি এবং তাদের সহযোগী কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলিকে রাজনৈতিক পরিসর ও সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, “আমাদের সময় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ছিল সাংবিধানিক কর্তব্য। কিন্তু এখন সংখ্যালঘুদের উপর হামলাকারীদের আইনের হাত থেকে বাঁচানো হচ্ছে। ফলে তারা আরও সহজে নিশানা হচ্ছে।”
একের পর এক হিন্দু হত্যা, উদ্বেগ চরমে
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২ জানুয়ারি থেকে এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রায় ৮–৯ জন হিন্দু খুন হয়েছেন বলে অভিযোগ।
১২ জানুয়ারি ফেনি-তে ২৮ বছরের অটোচালক সমীরকুমার দাস খুন হন।
১০ জানুয়ারি সিলেট-এ খুন হন জয় মহাপাত্র।
এর আগে মিঠুন সরকার প্রাণভয়ে পালাতে গিয়ে বিলে ঝাঁপ দিয়ে মারা যান।
৫ জানুয়ারি নরসিংদী-র পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর বাজারে নিজের মুদি দোকানে খুন হন হিন্দু ব্যবসায়ী শরৎ চক্রবর্তী মণি। একই দিনে যশোর-এ গুলি করে হত্যা করা হয় সাংবাদিক ও ব্যবসায়ী রানাপ্রতাপ বৈরাগীকে।
এছাড়াও—
-
২ জানুয়ারি খুন হন সত্য রঞ্জন দাস
-
৩ জানুয়ারি মিলন দাস ও সনু দাস
-
৩১ ডিসেম্বর আক্রান্ত খোকন চন্দ্র দাস-এর মৃত্যু হয় ৩ জানুয়ারি
-
৪ জানুয়ারি খুন হন শুভ পোদ্দার
হত্যা ছাড়াও জমি দখল, ডাকাতি, ধর্ষণের অভিযোগ
শুধু হত্যাই নয়, সংখ্যালঘুদের উপর একাধিক অপরাধের অভিযোগ উঠেছে।
২ জানুয়ারি লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে সত্যরঞ্জন দাসের জমির ধান পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
৩ জানুয়ারি চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে মিলন দাসের বাড়িতে ডাকাতি হয়।
একই দিনে কুমিল্লার হোমনায় সনু দাসের বাড়ি থেকে সোনা-রুপো লুট হয়।
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে এক হিন্দু বিধবা নারী ধর্ষণের শিকার হন বলে অভিযোগ।
ঐক্য পরিষদের রিপোর্ট
এই আবহে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। সংগঠনের দাবি, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসেই সংখ্যালঘুদের উপর অন্তত ৫১টি হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেছে। ওই মাসে খুন হয়েছেন ১০ জন হিন্দু।
ডিসেম্বরে চুরি-ডাকাতির ১০টি, বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার ২৩টি, ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগে নির্যাতনের ৪টি এবং ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে।
বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে। সংখ্যালঘু নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে ইউনুস সরকারের উপর চাপ আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।



