মোদির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন শেখ হাসিনার ছেলে সাজীব, ‘ভারত না থাকলে মা খুন হয়ে যেত’

জুলাই বিপ্লবের অশান্তির মাঝে শেখ হাসিনার প্রাণহানি রোধে ভারত সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা প্রকাশ করলেন সাজীব ওয়াজেদ। মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পর প্রথমবার সংবাদমাধ্যমে মুখ খুললেন তিনি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড ঘোষণাকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ঠিক এই পরিস্থিতিতেই প্রথমবার মুখ খুললেন তাঁর ছেলে সাজীব ওয়াজেদ, যিনি বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে হাসিনার পরবর্তী উত্তরসূরী হিসেবে পরিচিত। তাঁর বক্তব্যে সবচেয়ে বেশি অনুরণিত হয়েছে মোদির সরকার এবং ভারত সম্পর্কে কৃতজ্ঞতার সুর। সাজীবের দাবি, ভারত না থাকলে জুলাই বিপ্লবের সময় তাঁর মাকে সন্ত্রাসীরা খুন করে দিত

প্রথম থেকেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক উত্তাপ, ছাত্রদের বিক্ষোভ এবং আন্তর্জাতিক মহলের নজর ছিল ঢাকার পরিস্থিতির ওপর। সেই প্রেক্ষিতেই সাজীব বলেন, ভারত সরকার সঙ্কটের মুহূর্তে শেখ হাসিনার জীবন রক্ষা করেছে, যা তাঁর পরিবারের কাছে আজীবন স্মরণীয়। তাঁর কথায়, ‘‘ভারত সবসময় ভাল বন্ধু। জুলাই বিপ্লবের বিশৃঙ্খলার মধ্যে সময়মতো আমার মা দেশ ছেড়ে বেরতে না পারলে তাঁকে হত্যা করা হত। ভারত তাঁর জীবন বাঁচিয়েছে।’’

Sheikh Hasina death sentence ঘোষণার পর এই মন্তব্য রাজনৈতিকভাবে আরও তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি জানান, ‘‘আমি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারকে সারাজীবন কৃতজ্ঞ থাকব। আমার মায়ের প্রাণ রক্ষা সম্ভব হয়েছে এই সরকারের সক্রিয় ভূমিকার কারণেই।’’

‘ভারত না থাকলে মা খুন হয়ে যেত’- বললেন হাসিনা পুত্র

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সম্প্রতি শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেছে। অভিযোগ, জুলাই বিপ্লব চলাকালীন ছাত্রদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়নে তাঁর প্রশাসন যুক্ত ছিল। তবে সাজীব ওয়াজেদ এই বিচারপ্রক্রিয়াকে সরাসরি প্রহসন বলে আখ্যা দেন। তিনি দাবি করেন, ‘‘এটি ন্যায়বিচার নয়, প্রতিশোধ। মহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশ্য ছিল শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসা।’’

মোদির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন শেখ হাসিনার ছেলে সাজীব,
মোদির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন শেখ হাসিনার ছেলে সাজীব,

সাজীবের অভিযোগ আরও বিস্তৃত। তাঁর দাবি, আদালত শেখ হাসিনাকে কোনও আইনজীবী নিয়োগের সুযোগই দেয়নি। বরং তাঁর আইনজীবীদের আদালত প্রাঙ্গণে প্রবেশও বাধা দেওয়া হয়েছিল। তিনি আরও জানান, ‘‘রায় ঘোষণার আগে ১৭ জন বিচারককে সরিয়ে নতুন বিচারক বসানো হয়। তাঁদের মধ্যে অনেকে কোনও রকম অভিজ্ঞতাই রাখেন না এবং তাঁরা রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট।’’

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা, বিচারব্যবস্থার ওপর আস্থা, এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক—সবই এই ঘটনার মাধ্যমে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। বিশেষ করে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে মোদির সরকারের ভূমিকা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে উঠেছে।

সাজীব ওয়াজেদের বক্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে নতুন বিতর্ক শুরু হলেও তাঁর কণ্ঠে স্পষ্ট ছিল এক ধরনের আবেগ। মায়ের নিরাপত্তা, বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পথ—সবকিছু নিয়েই তিনি উদ্বিগ্ন। বাংলাদেশের আগামী রাজনীতি কোন পথে এগোবে, সেই উত্তর সময়ই দেবে। তবে তাঁর কথায় যে বার্তা উঠে আসে তা স্পষ্ট—ভারত না থাকলে শেখ হাসিনার জীবন আজ বিপন্ন হতো।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত