‘দোরে দোরে ভিক্ষা চাই—লজ্জায় মাথা নত’: অর্থনৈতিক সঙ্কটে প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর

দেশে-বিদেশে ঘুরে আর্থিক সাহায্য চাইতে হয় বলে প্রকাশ্যে স্বীকার করলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। ঋণের বোঝা ও আত্মসম্মানের সংঘাত নিয়ে চাঞ্চল্যকর মন্তব্য।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সঙ্কট আর গোপন থাকল না। শিল্পপতিদের সামনেই দেশের আর্থিক দুরবস্থার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করে নিলেন প্রধানমন্ত্রী Shehbaz Sharif। তাঁর কণ্ঠে ধরা পড়ল অসহায়ত্ব আর ক্ষোভ—দেশে-বিদেশে ঘুরে আর্থিক সাহায্য চাইতে গিয়ে যে লজ্জা ও আত্মসম্মানের আঘাত লাগে, তা লুকোনোর চেষ্টা করলেন না তিনি। শেহবাজের স্পষ্ট বক্তব্য, এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অনেক দেশ পাকিস্তানের উপর শর্ত চাপাচ্ছে।

ইসলামাবাদে টেক্সটাইল ও তুলো রপ্তানিকারকদের এক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শেহবাজ বলেন, “দেশে-বিদেশে ঘুরে ঘুরে ভিক্ষা চাই। আমার লজ্জা করে।” তাঁর দাবি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ গত কয়েক বছরে প্রায় দ্বিগুণ হলেও তার বড় অংশই বন্ধুদেশগুলির দেওয়া ঋণ। প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করেন, ঋণ নিতে গেলে মাথা নত করতেই হয়—এটাই বাস্তবতা।

এই প্রসঙ্গে তিনি জানান, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান Asim Munir-কে সঙ্গে নিয়ে একাধিক দেশে আর্থিক সহায়তা চাইতে গিয়েছেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতা যে তাঁর আত্মসম্মানে আঘাত করেছে, তা লুকোননি শেহবাজ। তাঁর কথায়, “ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির আর আমি দেশ-বিদেশে ঘুরে ভিক্ষা চাই। আমাদের মাথা হেঁট হয়ে যায়। ঋণ নেওয়া আত্মসম্মানের উপর বিশাল বোঝা। কিন্তু আমরা নিরুপায়।” তিনি আরও বলেন, বিদেশি রাষ্ট্রগুলি অনেক সময় এমন সব দাবি তোলে, যা উপেক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে।

পাকিস্তানের অর্থনৈতিক টানাপড়েনের প্রেক্ষিতেই গত বছরের ডিসেম্বরে International Monetary Fund (IMF) পাকিস্তানের জন্য ১২০ কোটি ডলার ঋণ মঞ্জুর করেছে। কোভিডের পর থেকে ডলারের তুলনায় পাকিস্তানি মুদ্রার মান ক্রমাগত কমেছে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে মুদ্রাস্ফীতি, জ্বালানি সঙ্কট ও বেকারত্ব। এই অবস্থায় IMF-র ঋণ অর্থনীতিকে সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে বলেই মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।

শেহবাজ শরিফের দাবি, অর্থমন্ত্রী Muhammad Aurangzeb-এর যুক্তির সামনে IMF শেষ পর্যন্ত নতি স্বীকার করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “IMF-কে বুঝিয়েছি—আমরা এখন স্থিতিশীল অর্থনীতির পথে হাঁটছি। কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছি, দারিদ্র কমানোর চেষ্টা করছি।” তবে এই ঋণ মঞ্জুরির বিরোধিতা করেছিল India—তবু তাতে সিদ্ধান্ত বদলায়নি আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডারের।

সব মিলিয়ে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর এই স্বীকারোক্তি শুধু একটি রাজনৈতিক বক্তব্য নয়—তা দেশের গভীর আর্থিক সঙ্কটের নগ্ন প্রতিফলন। ঋণনির্ভর অর্থনীতির এই চক্র থেকে পাকিস্তান আদৌ বেরোতে পারবে কি না, সে প্রশ্ন এখন আরও জোরালো।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন