নজরবন্দি ব্যুরো: মমতার হ্যাট্রিকে তারাপীঠে পুজো, আর গলায় দল নিয়ে উষ্মা, তবে কি যাচ্ছেন তিনিও…! যে হারে দলবদল চলছে বাংলায় তাতে সাধারণ মানুষ বুঝতেই পারছেন না নির্বাচন পর্যন্ত কে কোন দলে থাকবেন। দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে ইতিমধ্যেই শাসক দল থেকে বেরিয়ে বিজেপিতে যোগদান করেছেন একদল নেতা মন্ত্রী। অন্য দলে গিয়েই পুরনো দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ আর কটাক্ষের বন্যা বইয়ে দিয়েছেন তাঁরা। বেশ কিছুদিন আগে দলে থেকেই দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন শতাব্দী রায়।
আরও পড়ুনঃ চলে গেলেন গওহর খানের বাবা; মৃত্যুর পর ইনস্টাগ্রামে জানালেন অভিনেত্রী!
নাম না করেই অনুব্রত মণ্ডলকে কটাক্ষ করেছিলেন তিনি। জল্পনার সূত্রপাত হয়েছিল তখন থেকেই। অনেকে ভেবেছিলেন দলে থেকে দলের বিরুদ্ধে কথা বলাই দলত্যাগী প্রথম পদক্ষেপ, বাকি অনেকের মত হয়তো এবার শতাব্দী রায়ও যাচ্ছেন পদ্ম শিবিরে। তবে পরবর্তীতে অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকে এতদিন পরিস্থিতি ছিল স্বাভাবিক। তবে এবার আরো একবার দলের ভাঙনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে দলবিরধী মন্তব্য করেছেন তিনি। তবে আজকের প্রেক্ষাপট যদিও অন্য ছিল। নির্বাচনের আগে যখন সব দলই নবান্নের কুর্শিকে পাখির চোখ করে এগোচ্ছে তখন তৃতীয় বারের জন্যও ওই আসনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখতে চেয়ে তারাপীঠে পুজো দিলেন তিনি।
দীর্ঘ কয়েকবছর ধরেই তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত অভিনেত্রী শতাব্দী রায়। দলের ভালো সময়ে ছিলেন প্রথমের সারিতে, এই কঠিন পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর হাত শক্ত করে ধরতে আর পাশে দাঁড়াতে আওহান জানিয়েছেন সকলকে। তবে তারাপীঠে পুজো দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় হঠাৎই দলত্যাগীদের হয়ে সাওয়াল করে বসেন। দলত্যাগ নিয়ে জানতে চাওয়া হয়ে শতাব্দী জানান, “যাঁরা সম্মান পাচ্ছেন না তাঁরা দল ছাড়ছেন। দলের উচিত তাঁদের সঙ্গে কথা বলা।”
স্বাভাবিক ভাবেই শতাব্দীর এই বক্তব্যে ফের উঠে এসেছে চাপা পড়ে যাওয়া জল্পনা।প্রথম বার দলের বিরুদ্ধে যোখন বেসুর হয়েছিলেন তিনি তখন খোদ অভিষেক বন্দোপাধ্যায় বৈঠক করেছিলেন তাঁর সঙ্গে। একদিকে কঠিন সময়ে দিদির হাত ধরতে বলার পরেও দলত্যাগীদের প্রতি সহৃদয় মন্তব্যে অনেকেই মনে করছেন তাহলে কি এবার পথ বদলাবেন অভিনেত্রী থেকে “নেত্রী” হওয়া শতাব্দী রায়ও।
মমতার হ্যাট্রিকে তারাপীঠে পুজো, আর গলায় দল নিয়ে উষ্মা, তবে কি যাচ্ছেন তিনিও…! অন্যদিকে শতাব্দীর এই মন্তব্যের পর দলের অনেকেই বলছেন যদি দলের ভেতরের বিষয় নিয়ে সমস্যা ছিল তাহলে শতাব্দীর উচিত ছিল দলের সঙ্গে কথা বলা। অনেকেই মনে করছেন, তবে কি ভেবে ভেবে শেষে পদমবনে ঝাঁপ দেবেন তিনিও?



