নজরবন্দি ব্যুরো: শান্তিনিকেতন সফরের ঠিক আগেই পোড়ানো হল শাহের কুশপুতুল, রবিবার এক নতুন পরীক্ষার মুখে অমিত শাহ। রবীন্দ্র অনুরাগের পরীক্ষা। বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাঙালির আইকন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতি শাহের অনুরাগ ভোট বাক্সে অনেকটা প্রভাব ফেলবে। এই কারনেই শাহের বাঁকুড়া বা মেদিনীপুর সফরের থেকে শান্তিনিকেতন সফর অন্য রকম তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর শান্তিনিকেতন সফরের আগেই শুক্রবার বিজেপির পক্ষ থেকে দেওয়া পোস্টার নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক।
যেখানে শাহের মুখের ছবির নীচে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি দেওয়ায় বিশ্বভারতীর বর্তমান ও প্রাক্তন ছাত্ররা প্রতিবাদে মুখর হয়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ গত মাসে বাঁকুড়া সফরের সময় যে মূর্তিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছিলেন পরে তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ দাবি করেন বিরসা মুন্ডা বলে যে মূর্তিতে শ্রদ্ধা জানান শাহ তা আদৌ বিরসার নয়।
যদিও ২০১৮সালে যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিশ্বভারতীতে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আসেন তখন বক্তব্যের দু একটি ভুল ভ্রান্তিও তাঁর আন্তরিক কথাবার্তায় মুছে গিয়েছিল। তাঁর সফরের পর বিশ্বভারতী যেন নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি অনেকটাই আলাদা। বিজেপি নেতা সুব্রহ্মণীয়ম স্বামী গুরুদেবের লেখা জাতীয় সঙ্গীত বাতিলের দাবি করেছেন। তার পরে স্বাভাবিকভাবেই বাঙালির মধ্যে যথেষ্ট বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
শান্তিনিকেতন সফরের ঠিক আগেই পোড়ানো হল শাহের কুশপুতুল, এই পরিস্থিতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর শান্তিনিকেতন সফর যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। তাই দলের ইমেজ অনেকটাই নির্ভর করছে অমিত শাহের ওপর। শনিবার পোস্টার নিয়ে প্রতিবাদের পর রবিবারও শান্তিনিকেতনে প্রতিবাদ অব্যাহত। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফ্যাসিস্ট দাবি করে মিছিল ও কুশপুতুল দাহ করে বিশ্বভারতীর পড়ুয়াদের একাংশ। যদিও এই সফর সম্পূর্ণভাবে রাজনীতির ঊর্ধে রাখতে মরিয়া বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। রবিবার বিশ্বভারতীর অনুষ্ঠানে বিজেপির কোন নেতার উপস্থিতি থাকবে না বলেই কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়।



