নজরবন্দি ব্যুরো: একদিকে যখন যাদবপুরের ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় বাম ছাত্র সংগঠন SFI-কে দায়ী করা হচ্ছে তখন সব অভিযোগকে উপেক্ষা করে পথে নামল এসএফআই। সোমবার যাদবপুর ৮-বি বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু হয় মিছিল। মিছিলে অংশ নেন এসএফআইয়ের সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য। ছিলেন রাজ্য সভাপতি প্রতিক-উর-রহমান। যাদবপুর ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করলেন সৃজন।
আরও পড়ুন: সিনিয়রদের নির্দেশে রেলিং দিয়ে হাঁটতে হত জুনিয়রদের? চাঞ্চল্যকর বয়ান হস্টেলের রাঁধুনির
এদিন সৃজন বলেন, “এই ঘটনার পরের দিনই আমি ছাত্রের বাড়িতে গিয়েছিলাম। বাবা মায়ের চোখের দিকে তাকানো যাচ্ছে না। আমরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। এই ঘটনার জন্য সম্পূর্ণ ভাবে দায়ী যাদবপুর কর্তৃপক্ষ আর রাজ্য সরকার। আমরা ছাত্রের পরিবারের পাশে আছি।” সোমবার দিকে দিকে অনেকগুলি ছাত্র সংগঠন পথে নামে। কলেজ স্ট্রিটেও পথ অবরোধ করে SFI।
![]()
বিজ্ঞানের ছাত্র হয়েও সাহিত্যকে ভালোবেসে বাংলা নিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসেছিল নদীয়ার বগুলা গ্রামের এক ছেলে। অথচ নিজের স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসে এক সপ্তাহও কাটাতে পারল না সে। তিন দিন হস্টেলে থেকেই র্যাগিংয়ের শিকার হয়ে প্রাণ গেল তাঁর। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই সৌরভ চৌধুরী, মনোতোষ ঘোষ এবং দীপশেখর দত্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। হেফাজতে রেখে চলছে জিজ্ঞাসাবাদ।

আর এই তদন্তে নেমে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য জানতে পারছে পুলিশ। জানা যাচ্ছে কীভাবে র্যাগিং করা হত জুনিয়রদের। বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে এই কুপ্রথা। এবার হস্টেলের রাঁধুনি জানালেন, সিনিয়রদের নানা রকম কাজ করতে হত জুনিয়রদের। মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার তো চলতই, এমনকী সিনিয়রদের কথা না শুনলে রেলিংয়ের ওপর দিয়ে হাঁটতে বাধ্য করা হত।

অসমর্থিত সূত্রের খবর, আরও নানা রকম অত্যাচার করা হত। যেমন, অশ্লীল শব্দের ভাবসম্প্রসারণ, জামা কাপড় খোলানো, মাদক সেবনে সাহায্য করা। ‘ইন্ট্রো’ দেওয়ার নামে চলত আরও অনেক কুকীর্তি। বিভিন্ন নোংরা প্রশ্ন করা হত জুনিয়রদের, সমকামীতার প্রমাণ দিতেও বলা হত। আর সিনিয়রদের কথা না মানলেই পরিণতি ভয়ঙ্কর হত।
যাদবপুরকাণ্ডে পথে নামল SFI, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি সৃজনের




