আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বাম রাজনীতিতে নতুন করে জোট-চর্চা শুরু হল। কলকাতার নিউ টাউনের একটি হোটেলে বুধবার রাতে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম-এর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করলেন জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর। প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা এই বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে—তবে জোটের বিষয়ে এখনই কোনও চূড়ান্ত অবস্থান নিতে নারাজ সিপিএম।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হুমায়ুন কবীর জানান, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি সিপিএম এবং আইএসএফের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে লড়তে আগ্রহী। তাঁর কথায়, “মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আইএসএফের সঙ্গে কথা বলার বিষয়টি সিপিএমের উপরেই ছেড়ে দিতে চাই।” কংগ্রেস প্রসঙ্গে হুমায়ুন স্পষ্ট বলেন, ওই দল সিদ্ধান্ত নেওয়ার অবস্থায় নেই বলেই তাঁর ধারণা।


সূত্রের খবর, বৈঠকে আসন সমঝোতা নিয়েও প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। একে অপরের বিরুদ্ধে প্রার্থী না দেওয়ার সম্ভাবনাও আলোচনার টেবিলে এসেছে। যদিও এই বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও পক্ষই মুখ খোলেনি।
বৈঠক প্রসঙ্গে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম আনন্দবাজার ডট কমকে বলেন, “হুমায়ুন বিভিন্ন জায়গা থেকে যোগাযোগ করছিল। আজ ওর সঙ্গে দেখা হল। নতুন দল করলে আমি কথা বলবই বলেছিলাম। ওর ভাবনাগুলো জানলাম। এখন দলকে জানাব।” হুমায়ুনের দল আদৌ ধর্মনিরপেক্ষ কি না—এই প্রশ্নে সেলিম বলেন, “মুখে তো তাই বলছে। তবে আগে ও যে সব কথা বলেছে, সেগুলো উপেক্ষা করা যায় না। এ সব নিয়েই দলের মধ্যে আলোচনা হবে।”
এই বৈঠককে কেন্দ্র করে বাম শিবিরের একাংশ আশাবাদী হলেও দলের ভিতরেই রয়েছে স্পষ্ট দ্বিধা। সিপিএমের একটি বড় অংশের নেতাদের বক্তব্য, যে নেতার নাম বাবরি মসজিদ নির্মাণ সংক্রান্ত বিতর্কে উঠে এসেছে, তাঁর সঙ্গে জোট চাপিয়ে দেওয়া হলে তা উল্টো ফল দিতে পারে। তাঁদের আশঙ্কা, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আইএসএফের সঙ্গে জোটের মতো পরিস্থিতিই ফের তৈরি হতে পারে। ফলে জোট প্রশ্নে সাবধানী মনোভাবেই এগোতে চাইছে সিপিএম।









