সেলিম-হুমায়ুন হোটেল-বৈঠক নিয়ে বিস্ফোরক দিলীপ ঘোষ! ভোটের আগেই কি তৃতীয় জোটের ইঙ্গিত?

সেলিম-হুমায়ুন বৈঠক ঘিরে জোট জল্পনায় নতুন মাত্রা। তৃতীয় শক্তির সম্ভাবনা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য দিলীপ ঘোষের। ছাব্বিশের ভোটের আগে রাজনীতি কোন পথে?

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ছাব্বিশের বিধানসভা ভোট যত এগোচ্ছে, ততই ঘনাচ্ছে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের জল্পনা। ঠিক সেই আবহেই নিউ টাউনের একটি হোটেলে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম ও জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীরের বৈঠক বঙ্গ রাজনীতিতে নয়া আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আর এই বৈঠক ঘিরে আগুনে ঘি ঢাললেন বিজেপির প্রবীণ নেতা দিলীপ ঘোষ। তাঁর মন্তব্যে আরও স্পষ্ট হল—ভোটের আগে রাজ্যে বড় রাজনৈতিক রদবদল একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে সিপিএম নেতৃত্বের এই বৈঠককে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠছে—তবে কি কংগ্রেস ও আইএসএফের বাইরে গিয়ে নতুন কোনও সমীকরণের পথে হাঁটছে সিপিএম? এই জল্পনার মাঝেই নিউ টাউনে প্রাতঃভ্রমণে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে দিলীপ ঘোষ বলেন, “জোট হবে কি না, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।”

দিলীপ ঘোষ-এর কটাক্ষ এখানেই থামেনি। তাঁর দাবি, “সিপিএম নিজেরাই ঘেঁটে দিতে চাইছে পরিস্থিতি। তৃণমূল চাইছে না কোনও জোট হোক। সিপিএমকে ব্যবহার করে তৃণমূল খেলছে। সিপিএম সব সময় কনফিউজড থাকে—কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করবে না, আবার সম্পর্কও ছাড়তে পারে না। শেষে দেখা যাবে, দু’পক্ষই জিরো।”

রাজনৈতিক জোট প্রসঙ্গের পাশাপাশি এসআইআর ইস্যুতেও সরব হন দিলীপ ঘোষ। নির্বাচন কমিশনের কড়া নির্দেশ সত্ত্বেও আধিকারিকদের বদলি নিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, “রাজ্য সরকারের আধিকারিকরাই জটিলতা তৈরি করছে। পরে সেই দায় কেন্দ্রের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু নিরপেক্ষভাবেই এসআইআর সম্পন্ন হবে।”

এদিকে ভোটের আবহে রাজ্যে ফের আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এই সফর ঘিরে প্রশ্ন উঠলে দিলীপ ঘোষ বলেন, “বাংলার শিল্পপতিরা একের পর এক রাজ্য ছাড়ছেন। কেন বাংলায় শিল্প হচ্ছে না, সেটাই আসল প্রশ্ন।” তাঁর কথায়, অমিত শাহের এই সফর মূলত কর্মীসভা কেন্দ্রিক। মার্চ মাস থেকেই বিজেপির সংগঠিত নির্বাচনী সভা শুরু হবে।

বিএলওদের ভূমিকা ও নির্বাচন কমিশনের ক্ষোভ প্রসঙ্গেও তোপ দাগেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি। তাঁর অভিযোগ, “তৃণমূল ইচ্ছাকৃতভাবে বিএলওদের দিয়ে নাম ভুল করাচ্ছে, যাতে জটিলতা তৈরি হয়। তার দায় চাপানো হচ্ছে কমিশনের উপর। কিন্তু কোনওভাবেই এসআইআর আটকানো যাবে না।”

সব মিলিয়ে সেলিম-হুমায়ুন বৈঠক, দিলীপ ঘোষের মন্তব্য এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আগমন—ছাব্বিশের ভোটের আগে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত আরও স্পষ্ট হচ্ছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন