শুক্রবার সকালে শিয়ালদহ মেন শাখায় আচমকা ট্রেন চলাচলে বড়সড় ব্যাঘাত দেখা দেয়। আগরপাড়া ও বেলঘরিয়া স্টেশনের আশপাশে পরপর একাধিক ট্রেন দাঁড়িয়ে পড়ায় আপ ও ডাউন—দুই লাইনের পরিষেবাই বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ব্যস্ত অফিস সময়েই এই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় হাজার হাজার যাত্রী চরম ভোগান্তির মুখে পড়েন। অনেকেই বাধ্য হয়ে বিকল্প পরিবহণের খোঁজ করতে শুরু করেন।
রেল সূত্রে জানা যায়, আগরপাড়া স্টেশনের চার নম্বর প্ল্যাটফর্মে আচমকা দাঁড়িয়ে পড়ে ব্যারাকপুর থেকে বিবাদি বাগগামী একটি লোকাল ট্রেন। দীর্ঘ সময় কোনও ঘোষণা না হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে অনেক যাত্রী ট্রেন থেকে নেমে প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষা করতে শুরু করেন।


এই লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আগরপাড়া স্টেশনের চার নম্বর লাইনে একের পর এক ট্রেন দাঁড়িয়ে পড়ে। যদিও পাশের দুই নম্বর প্ল্যাটফর্ম দিয়ে শিয়ালদহগামী কিছু ট্রেন চলাচল করছিল, কিন্তু সেই ট্রেনগুলিতে অতিরিক্ত ভিড় তৈরি হয়। ফলে প্ল্যাটফর্মেও যাত্রীদের চাপ ক্রমশ বাড়তে থাকে।
অন্যদিকে, শুধু ডাউন লাইনে নয়, আপ লাইনের পরিষেবাও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। বেলঘরিয়া স্টেশনের তিন নম্বর প্ল্যাটফর্মে শিয়ালদহ থেকে কৃষ্ণনগরগামী একটি এসি লোকাল ট্রেন দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকে। তার পিছনেও একাধিক ট্রেন আটকে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
সাধারণত সকালের ব্যস্ত সময়ে ডাউন লাইনের ট্রেনগুলিতে যাত্রীসংখ্যা বেশি থাকে। ফলে একটি লাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিকল্প লাইনের ট্রেনগুলিতে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। অনেক যাত্রী ভিড়ের কারণে ট্রেনে উঠতেই পারেননি বলে অভিযোগ।


এই পরিস্থিতি নিয়ে পূর্ব রেলের তরফে প্রথমে কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাজির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি এবং হোয়াটসঅ্যাপেও কোনও উত্তর দেননি।
তবে পরে পূর্ব রেলের জনসংযোগ আধিকারিক দীপ্তিময় দত্ত জানান, বড় ধরনের কোনও দুর্ঘটনা ঘটেনি। সিগন্যাল সংক্রান্ত সমস্যার জেরেই ট্রেন চলাচল কিছুটা বিলম্বিত হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন।







