গত ১৫ ফেব্রুয়ারী সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চ ঐতিহাসিক রায়ের মাধ্যমে ঘোষণা করেন নির্বাচনী বন্ড অসাংবিধানিক। এই আবহে ৪ মার্চের মধ্যে নির্বাচনী বন্ড (Electoral Bond) নিয়ে যাবতীয় তথ্য জমা করতে নির্দেশ করা হয়েছিল স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়াকে। তবে এই তথ্য জমা দেওয়ার জন্য আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত সময় চেয়েছিল দেশের সবচেয়ে বড় ব্যাঙ্ক।
আরও পড়ুন: সিএএ রুখতে মামলা দায়ের শীর্ষ আদালতে, আগামী ১৯ মার্চ শুরু শুনানি

গত ৪ মার্চ এসবিআইয়ের তরফ থেকে সুপ্রিম কোর্টে একটি আবেদন করে তারা দাবী করেন, নির্বাচনী বন্ড সংক্রান্ত তথ্য জমা দিতে তাদের সময় লাগতে পারে। কারণ সেই তথ্য ডিকোড করতে সময় লাগবে। এটি খুবই জটিল প্রক্রিয়া। এদিকে এসবিআইয়ের আবেদন মেনে নিয়ে এই তথ্য জমার মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। অর্থাৎ লোকসভা নির্বাচনের (Loksobha Election 2024) পরেই এই সংক্রান্ত তথ্য জনসমক্ষে আসবে।

তবে ব্যাঙ্কের তরফে জানানো হয়েছিল, মোট ২২ হাজার ২১৭ টি নির্বাচনী বন্ড বিক্রি করা হয়েছে। সামনে লোকসভা নির্বাচন।চলতি সপ্তাহের মধ্যে ঘোষণা হয়ে যাবে পরীক্ষার সময়সূচী। নির্বাচনের প্রাক্কালে নির্বাচনী বন্ড সংক্রান্ত তথ্যপ্রকাশে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার অতিরিক্ত সময় চাওয়ার আবেদন খারিজ করে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)।সোমবার আদালতের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কোনও টালবাহানা নয়, আগামীকাল অর্থাৎ ১২ মার্চের মধ্যে নির্বাচনী বন্ড সংক্রান্ত তথ্য নির্বাচন কমিশনকে (Election Commission) দিতে হবে স্টেট ব্যাঙ্ককে (SBI)। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ১৫ মার্চ বিকেল ৫ টার মধ্যে নিজেদের ওয়েবসাইটে এই সংক্রান্ত নথি প্রকাশ্যে আনবে নির্বাচন কমিশন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সেই সকল তথ্য তাদের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশও করেছে কমিশন। তাতে, কোন কোন সংস্থা কবে, কত টাকার নির্বাচনী বন্ড কিনেছে এবং কোন কোন দল কবে সেই বন্ড ভাঙিয়েছে, তার হিসেব পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু, নির্বাচনী বন্ডের নম্বর প্রকাশ করা হয়নি।
অসম্পূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেছে এসবিআই, নোটিশ পাঠাল সুপ্রিম কোর্ট

ফলে, দাতাদের সঙ্গে প্রাপকদের সংযোগ করার কোনও উপায় নেই। কোন সংস্থা বা ব্যক্তি, কোন রাজনৈতিক দলকে অনুদান দিয়েছে, তা জানার উপায় নেই। নির্বাচনী বন্ডের নম্বর না প্রকাশ করার জন্য, এবং আদালতের আগের রায় সম্পূর্ণরূপে মেনে না নেওয়ার জন্য, শুক্রবার ১৫ মার্চ এসবিআই-কে নোটিশ পাঠাল সুপ্রিম কোর্ট। আগামী ১৮ মার্চ এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।



