চরম শঙ্কটের মুখে ৪০ হাজার গ্রাহক সহ ৬০ জন ব্যাঙ্ক কর্মী।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ চরম শঙ্কটের মুখে ৪০ হাজার গ্রাহক সহ ৬০ জন ব্যাঙ্ক কর্মী। ২০১০ সালের ৩রা আগষ্ট হাওড়া শহরের রামকৃষ্ণপুর কোঅপারেটিভ ব‍্যাঙ্ক বন্ধ করে দেওয়া হয়। ১৩ই আগষ্ট এই ব‍্যাঙ্কের গ্রাহক এবং কর্মচারীরা জানতে পারেন যে এই ব‍্যাঙ্ক আর খোলা হবে না। এর আগে রিজার্ভ ব‍্যাঙ্ক ১৭ই জুন ২০১০ তারিখে এই ব‍্যাঙ্কের Application For License ” বাতিল বলে ঘোষণা করে। অভিযোগ আর্থিক দুর্নীতি। অনাদায়ী ঋণের পরিমান অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। কিন্তু প্রশ্ন হলো ২০০২ সাল থেকে অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ বাড়তে থাকে। তাহলে তখন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের RCS ( Registered of Cooperative Society ) যারা সমবায় ব‍্যাঙ্কগুলোকে দেখভাল করে তারা কি করছিলো?

আরও পড়ুনঃ আমাদের বাঁচান দিদি! মুখ্যমন্ত্রী’কে কাতর আবেদন ১০ হাজার শিক্ষকের

অপরদিকে নিয়ম অনুযায়ী রিজার্ভ ব‍্যাঙ্কে এই ব‍্যাঙ্কের সমস্ত রিপোর্ট যেতো। তাহলে রিজার্ভ ব‍্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ কি ঘুমিয়ে ছিলো? না ঘুমোবার অভিনয় করেছিলো। ফল ভোগ করছে কে? এই ব‍্যাঙ্কের ৪০ হাজার গ্রাহক ও ৬০ জন কর্মচারী। পূর্বতন সরকারের আমলে রুগ্ন সমবায় ব‍্যাঙ্কগুলোকে চাঙ্গা করার জন‍্য আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছিলো। এই ব‍্যাঙ্কও বাদ যায় নি।এই ব‍্যাঙ্ক বাঁচানোর জন‍্য প্রথমে ৪-৫০ কোটি টাকা এই ব‍্যাঙ্ককে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু রিজার্ভ ব‍্যাঙ্কের লাইসেন্স কেড়ে নেওয়ার ফলে এই অনুদানের টাকা এই ব‍্যাঙ্কের একাউন্টে জমা করা সম্ভব হয়নি।

এই ব‍্যাঙ্কের গ্রাহক ও কর্মচারীরা বাধ‍্য হয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়। উচ্চ আদালত তার অর্ডারে পরিষ্কার করে উল্লেখ করে এই ব‍্যাঙ্ক খোলা সম্ভব। তার জন‍্য Revival & Recovery Committee তৈরী করে। কমিটি মেম্বাররা ব‍্যাঙ্কে আসছেন এবং লোন আদায়ের কাজ করছেন। এই ব‍্যাঙ্কের লোন আদায় অনেকটাই সম্ভব বলে কর্মচারীদের ধারণা। এই ব‍্যাঙ্কের অনেক সম্পত্তি আছে যেগুলো ক্রোক করা সম্ভব। সেইখান থেকে ভালো লোনের টাকা আদায় হবার সম্ভাবনা আছে। অনেক সম্পত্তি আছে যেগুলো আইনি পদক্ষেপ নিলে লোন আদায় সম্ভাবনা প্রচুর।

চরম শঙ্কটের মুখে ৪০ হাজার গ্রাহক সহ ৬০ জন ব্যাঙ্ক কর্মী। এছাড়া secured loan যেগুলো আছে এর টাকা থেকে যথেষ্ট আয়ের সম্ভাবনা।পূর্বতন সরকারের দেওয়া ৪-৫০ কোটি টাকা আজ বেড়ে প্রায় ৬ থেকে ৭ কোটি টাকা। নিয়মঅনুযায়ী এই ব‍্যাঙ্কের গচ্ছিত টাকা অন‍্যান‍্য ব‍্যাঙ্কেও আছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো সব তথ‍্য জানা সত্বেও রাজ‍্যসরকার চুপ কেন?
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো এই ব‍্যাঙ্ক খোলার। কিন্তু সরকারের তরফ থেকে কোনো ভূমিকা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। শোনা যাচ্ছে কমিটিও তার রিপোর্টে এটা পরিষ্কার করে দিয়েছে যে এই ব‍্যাঙ্কের লোন আদায় সম্ভব। ব‍্যাঙ্ক খুলে এই ব‍্যাঙ্ক চালানো যেতে পারে। রাজ‍্যসরকার যদি ৫০ কোটি টাকা অনুদান দেয় তাহলে এই ব‍্যাঙ্কের Application for License রিজার্ভ ব‍্যাঙ্ক ফিরিয়ে দিতে বাধ‍্য থাকবে।
ব‍্যাঙ্কটা সর্বসাধারণের জন‍্য খোলার একটা জায়গা থাকবে। গ্রাহকরা তাদের গচ্ছিত টাকা ফেরৎ পাবে এবং কর্মচারীরা তাদের চাকরি ফেরৎ পাবে। কর্মচারীরা এক অসহনীয় আর্থিক পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করছে। তাদের পরিবার বাঁচবে।

ক্লাবগুলো যদি সরকারের আর্থিক অনুদান পেয়ে থাকে তবে সরকার কেন এগিয়ে আসবে না এই ব‍্যাঙ্কটা বাঁচাতে। এই ব‍্যাঙ্কের ৪০ হাজার গ্রাহক আর ৬০ জন কর্মচারীর মূল‍্য কি সরকারের কাছে নেই?
১০ বছর অতিক্রম করে ১১ বছরে পড়লো এই ব‍্যাঙ্কের বন্ধের ইতিহাস। আর কতদিন লাগবে। মহামান‍্য উচ্চ আদালতের নির্দেশ এবং অনাদায়ী ঋণ আদায়ের প্রভূত সম্ভাবনা থাকা সত্বেও কেন এই ব‍্যাঙ্ক খোলা নিয়ে রাজ‍্য সরকার গরিমসী করছে তা নিয়ে গ্রাহক ও কর্মচারীদের মনে সন্দেহের দানা বাঁধছে।
তাই এই ব‍্যাঙ্কের গ্রাহক ও কর্মচারীদের সিদ্ধান্ত আগামী ১৩ই আগষ্ট বৃহস্পতিবার সোসাল মিডিয়া ও ভার্চুয়ালের যুগে সোসাল মিডিয়ায় একদিনের প্রতীকি প্রতিবাদ পালন করবে। হোয়াটসঅ‍্যাপ আর ফেসবুকে তাদের ডিপির রঙ কালো ব‍্যবহার করে এই প্রতিকী প্রতিবাদ হবে। পরবর্তীকালে বৃহত্তর আন্দোলনে যাবার পরিকল্পনা আছে। একটাই দাবি ৪০ হাজার গ্রাহক ও ৬০ জন কর্মচারীর স্বার্থে এই ব‍্যাঙ্ক খুলতে হবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত