দুর্গাপুর ধর্ষণকাণ্ডে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যের পর এবার বিতর্কে জড়ালেন তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় (Saugata Roy)। তাঁর মন্তব্য—“অত রাতে কলেজ থেকে বেরনো ঠিক নয়”—ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া। মুখ্যমন্ত্রীর মতোই, মেয়েদের ‘সতর্কতা’ নিয়েই মন্তব্য করলেন সাংসদ।
সংবাদ সংস্থা ANI-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সৌগত রায় বলেন, “সব জায়গায় তো পুলিশ পাহারা দিতে পারে না। তাই মেয়েদের সাবধান থাকা প্রয়োজন। অত রাতে কলেজ থেকে বেরনো ঠিক নয়।”
তিনি আরও বলেন, “প্রতিটি রাস্তায় পুলিশ থাকে না। প্রতিটি ইঞ্চিতে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব নয়। কোনও ঘটনা ঘটলে পুলিশ ব্যবস্থা নিতে পারে, কিন্তু প্রতিরোধ সবক্ষেত্রে সম্ভব নয়।”
দুর্গাপুর ধর্ষণ: ঘটনাপ্রবাহে নজর
ঘটনার তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, দুর্গাপুরের বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ও তাঁর সহপাঠী রাত ৭টা ৫৮ মিনিটে কলেজ থেকে বের হন। প্রায় ৮টা ৪২ মিনিটে দেখা যায় সহপাঠী একা ফিরে আসেন। কয়েক মিনিট ক্যাম্পাসের বাইরে ঘোরাঘুরি করার পর দু’জনে আবার ফিরে আসেন রাত ৯টা ২৯ মিনিটে। ৯টা ৩২ মিনিটে নির্যাতিতা একা হস্টেলে ঢোকেন।
এই সময়েই নৃশংস ঘটনার সূত্রপাত বলে দাবি তদন্তকারীদের। রাজ্যজুড়ে এই ঘটনায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে, এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।
সৌগত রায়ের মন্তব্যে নতুন বিতর্ক
তৃণমূল সাংসদের বক্তব্যে রাজনৈতিক মহলে নেমেছে তোলপাড়। বিরোধীদের অভিযোগ, মেয়েদের নিরাপত্তাহীনতার দায় সরকার না নিয়ে, বরং তাদেরই ‘সতর্কতা’র বার্তা দেওয়া হচ্ছে।
বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ (Shankar Ghosh) বলেন, “মেয়েদের ঘরে ঢুকিয়ে রাখার মানসিকতাই তৃণমূলের। মুখ্যমন্ত্রী থেকে সাংসদ—সবার বক্তব্যেই সেই প্রতিফলন স্পষ্ট।”
তিনি আরও বলেন, “সৌগতবাবু কি বলতে পারবেন, মেয়েরা শুধু রাতে আক্রান্ত হন? দিনের বেলায় ধর্ষণ হয় না? আসলে সমস্যাটা সময়ের নয়, প্রশাসনের।”
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নয়া চাপানউতোর
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শনিবার দুর্গাপুর কাণ্ডে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে বলেন, “রাতে জঙ্গলের মতো জায়গায় মেয়েদের বেরনো উচিত নয়।” তাঁর এই মন্তব্যেই ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে বিরোধী শিবির ও নারী সংগঠনগুলি।
এরপর সৌগত রায়ের মন্তব্য সেই আগুনে ঘি ঢেলেছে বলেই মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। তারা বলছেন, “এই মন্তব্যগুলো প্রশাসনিক দায় এড়ানোর প্রয়াস মাত্র।”
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে:
অপরাধের দায় কখনও ভুক্তভোগীর নয়। আইনজীবী মহলের বক্তব্য, “রাত, দিন, সময়—কোনওটাই গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুরুত্বপূর্ণ হল প্রশাসনের দায়বদ্ধতা এবং অপরাধীদের শাস্তি।”
মনোবিজ্ঞানীরা সতর্ক করছেন, এই ধরনের মন্তব্য ভিকটিম-ব্লেমিং (victim blaming) সংস্কৃতিকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারে।
জনমতের প্রতিক্রিয়া:
সোশ্যাল মিডিয়ায় সৌগত রায়ের মন্তব্য নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন নেটিজেনরা। অনেকেই লিখেছেন, “মেয়েদের বেরনো বন্ধ না করে, অপরাধীদের শাস্তি দিন।” অন্যদিকে, তৃণমূলের একাংশের মতে, সাংসদের বক্তব্যকে ‘ভুল ব্যাখ্যা’ করা হচ্ছে।






