সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ‘Cockroach Janata Party’ (CJP) ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি করলেন ভারতীয় র্যাপার ও মিউজিক আর্টিস্ট স্যান্টি শর্মা (Santy Sharma)। ইনস্টাগ্রামে করা এক কড়া পোস্টে তিনি দাবি করেছেন, CJP “গুরুতর রাজনৈতিক আন্দোলনের চেয়ে বেশি ইন্টারনেট ড্রামা” বলেই মনে হচ্ছে। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই Instagram, X এবং YouTube-এ তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে।
নিজের পোস্টে Santy Sharma লেখেন, আজকাল বহু মানুষ কোনও আন্দোলনের পেছনের বাস্তবতা না জেনেই সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রেন্ড অনুসরণ করেন। তাঁর দাবি, Cockroach Janata Party-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের অতীতে আম আদমি পার্টির সঙ্গে যোগ ছিল এবং তিনি একাধিক সময়ে এমন পোস্ট করেছেন, যা ভারতের বিরোধী বলেই তাঁর মনে হয়েছে।
Santy-র বক্তব্য, প্রকৃত জাতীয়তাবাদ মানে দেশের বাস্তব সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা। কর্মসংস্থান, শিক্ষা, উদ্ভাবন এবং জাতীয় ঐক্যের মতো বিষয়গুলিতে গুরুত্ব না দিয়ে Gen Z-কে আবেগের বশে রাস্তায় নামানো ঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও লেখেন, “কোনও রাজনৈতিক দলই নিখুঁত নয়, বিজেপিও নয়। সমালোচনা গণতন্ত্রের অংশ। কিন্তু অযথা অস্থিরতা, outrage culture এবং অনলাইন প্রোপাগান্ডা দেশের উন্নয়নের পথ হতে পারে না।”
স্যান্টি শর্মা (Santy Sharma)-র অভিযোগ, এই ধরনের ডিজিটাল আন্দোলনের পিছনে পাকিস্তান, বাংলাদেশ-সহ একাধিক ‘অ্যান্টি-ইন্ডিয়া’ ন্যারেটিভ যুক্ত অ্যাকাউন্ট সক্রিয় থাকতে পারে। তাই অনলাইন প্রোপাগান্ডা ও ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন সম্পর্কে ভারতীয়দের সতর্ক থাকার আহ্বানও জানান তিনি।
মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা স্যান্টি শর্মা (Santy Sharma) মূলত স্বাধীন মিউজিক, র্যাপ এবং সোশ্যাল মিডিয়া কমেন্ট্রির জন্য পরিচিত। IMDb অনুযায়ী তাঁর আসন্ন প্রোজেক্ট ‘The UAE Rockstar’। এছাড়াও ‘Housefull 5’-এ মিউজিক প্রোডিউসার হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি।
এদিকে Cockroach Janata Party-কে ঘিরে বিতর্ক ইতিমধ্যেই আদালত পর্যন্ত পৌঁছেছে। সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে, যেখানে CJP এবং তাদের সঙ্গে যুক্ত তথাকথিত ভুয়ো আইনজীবীদের বিরুদ্ধে CBI তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
গত সপ্তাহে শুরু হওয়া এই ডিজিটাল ক্যাম্পেইন দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে। বেকারত্ব, শিক্ষা নীতি এবং NEET-UG 2026 প্রশ্নফাঁসের মতো ইস্যুকে সামনে রেখে তৈরি হওয়া মিম ও অনলাইন প্রচার ব্যাপক সাড়া ফেলে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
এরই মধ্যে CJP-র ওয়েবসাইট হঠাৎ অফলাইন হয়ে যাওয়ায় নতুন বিতর্ক শুরু হয়। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে অভিযোগ করেন, সরকার “স্বৈরাচারী আচরণ” করছে। তাঁর দাবি, প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ এই প্ল্যাটফর্মে সদস্য হিসেবে নাম নথিভুক্ত করেছেন।
দিপকের আরও অভিযোগ, শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্নীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলার বদলে প্রশাসন ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলনকেই নিশানা করছে। পাশাপাশি তিনি মৃত্যুর হুমকিও পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সোশ্যাল মিডিয়া নির্ভর নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক প্রচার, ডিজিটাল ব্যঙ্গ এবং ভাইরাল অনলাইন আন্দোলন এখন দেশের রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতা তৈরি করছে। আর সেই বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে Cockroach Janata Party নামের এই ভাইরাল ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম।



