টি-২০ বিশ্বকাপ ফাইনালে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে নতুন ইতিহাস গড়লেন সঞ্জু স্যামসন। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ঝকঝকে ইনিংস খেলেই শুধু ভারতকে শক্ত ভিত গড়ে দেননি, একই সঙ্গে ভেঙে দিলেন বিরাট কোহলির ১২ বছর পুরোনো বিশ্বকাপ রেকর্ডও। ফাইনালের মঞ্চে তাঁর পরিণত ব্যাটিং এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে আবারও প্রমাণ মিলল— বড় ম্যাচে বড় খেলোয়াড়ই উঠে আসেন।
২০২৬ সালের আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং করেন সঞ্জু স্যামসন। ওপেনিংয়ে অভিষেক শর্মার সঙ্গে জুটি বেঁধে প্রথম উইকেটে ৯৮ রানের গুরুত্বপূর্ণ পার্টনারশিপ গড়েন তিনি। অভিষেক যেখানে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করছিলেন, সেখানে সঞ্জু ধৈর্য ধরে ইনিংস গড়ে দলকে স্থিতি দেন। মাত্র ৩৩ বলেই অর্ধশতরান পূর্ণ করেন তিনি।


এই ইনিংসের মধ্য দিয়েই টানা তিনটি অর্ধশতরানের নজির গড়েন সঞ্জু। টি-২০ বিশ্বকাপের মঞ্চে এটি তাঁর অর্ধশতরানের হ্যাটট্রিক। পাশাপাশি সেমিফাইনাল ও ফাইনাল— দুই নকআউট ম্যাচেই ৫০-এর বেশি রান করা প্রথম ভারতীয় ওপেনার হিসেবেও ইতিহাসে নাম লেখান তিনি।
পরিসংখ্যান বলছে, টি-২০ বিশ্বকাপের ইতিহাসে সেমিফাইনাল ও ফাইনাল— দুই ম্যাচেই অর্ধশতরান করার কীর্তি এর আগে ভারতীয়দের মধ্যে করেছিলেন বিরাট কোহলি। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে সেই নজির গড়েছিলেন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এর আগে পাকিস্তানের শহিদ আফ্রিদিও এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন।
এতেই শেষ নয়। এই বিশ্বকাপেই আরেকটি বড় রেকর্ড নিজের নামে করে নিলেন সঞ্জু। টুর্নামেন্টে মোট ৩২১ রান করে তিনি ভেঙে দিলেন বিরাট কোহলির ২০১৪ সালের টি-২০ বিশ্বকাপের রেকর্ড। সে বছর কোহলি করেছিলেন ৩১৯ রান। ১২ বছর পর সেই রেকর্ড এবার সঞ্জুর দখলে।


ফাইনালে সঞ্জু স্যামসন খেলেন ৮৯ রানের ঝকঝকে ইনিংস। যদিও শতরান থেকে অল্পের জন্য বঞ্চিত হন, তবু তাঁর এই ইনিংস ভারতের ইনিংসের ভিত শক্ত করে দেয়।
আরও উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, টুর্নামেন্টের প্রথম চার ম্যাচে সঞ্জু স্যামসন সুযোগই পাননি। কিন্তু দলে সুযোগ পাওয়ার পরই ব্যাট হাতে ঝড় তুলেছেন তিনি। মাত্র পাঁচ ম্যাচে ৮০.২ গড়ে ৩২১ রান করেছেন সঞ্জু। গোটা বিশ্বকাপ জুড়ে তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ২৪টি ছক্কা এবং ২৭টি চার।
সব মিলিয়ে, ফাইনালসহ পুরো টুর্নামেন্টে সঞ্জু স্যামসনের ব্যাটিং ভারতের বিশ্বকাপ অভিযানে অন্যতম বড় শক্তি হয়ে উঠেছে।








