সন্দীপের কথাতেই ক্যামেরার ফুটেজ নষ্ট করেছেন অভিজিৎ, আর জি কর-কাণ্ডের পরিকল্পনা ফাঁস!

গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, সন্দীপ ঘোষ এবং টালা থানার তৎকালীন ওসি অভিজিৎ মণ্ডল জেরায় সদুত্তর দিচ্ছেন না।

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

আর জি কর ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগে গত শনিবার সিবিআই-এর হাতে গ্রেফতার হয়েছেন আর জি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ ও টালা থানার তৎকালীন ওসি অভিজিৎ মণ্ডল। আগেই অবশ্য আর্থিক দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হন সন্দীপ। এই দু’জনকে রবিবার সন্ধ্যেতে সিজিও কমপ্লেক্সে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করেন গোয়েন্দারা। সেখানেই একাধিক প্রশ্নের তাঁরা সদুত্তর দিতে পারেননি বলে তদন্তকারী দল সূত্রে খবর।

সন্দীপ ও অভিজিৎ আগে থেকেই একে অপরকে চিনতেন। ৯ অগস্ট আর জি করের ঘটনার আগেও নানান দরকারে দু’জনের মধ্যে ফোনে এবং সামনাসামনি কথা হয়েছে। ঘটনার পর হাসপাতালে একসঙ্গে বেশকিছুক্ষণ উপস্থিত ছিলেন সন্দীপ ও অভিজিৎ। আর জি করের এই নৃশংস ঘটনায় বারবার সিসিটিভি ফুটেজের কথা উঠে আসছে। গোটা রাতের ঘটনার বদলে মাত্র ২৭ মিনিটের সিসিটিভি ফুটেজ সিবিআই-কে পুলিশ তুলে দিয়েছে। আর এই সংক্ষিপ্ত ফুটেজ থাকায় তদন্তে অগ্রগতি আনতে সমস্যা হয়েছে বলে বারংবার জানাচ্ছেন গোয়েন্দারা।

মঙ্গলবার আর জি কর মামলার চতুর্থ শুনানি ছিল সুপ্রিম কোর্টে। সেখানে তদন্তের স্টেটাস রিপোর্ট জমা দিয়েছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি। ফের একবার উঠে এসছে সিসিটিভি প্রসঙ্গ। গত শুনানিতেই সিবিআই জানিয়েছিল, তারা ২৭ মিনিটের ফুটেজ পেয়েছে। জনস্বার্থ মামলাকারীর আইনজীবী ফিরোজ এডুলজি আজ প্রশ্ন তোলেন, কলকাতা পুলিশ কেন ২৭ মিনিটের ফুটেজ দিল? বাকি ফুটেজ কেন দেওয়া হল না? রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিব্বল জানান, পুলিশ ৭-৮ ঘণ্টার ফুটেজ দিয়েছে। যদিও সিবিআইয়ের তরফে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা তাতে আপত্তি জানান। গোয়েন্দাদের দাবি, ক্যামেরার ফুটেজ নষ্ট করার ক্ষেত্রে টালা থানার ওসি অভিজিতকে ব্যবহার করেছিলেন সন্দীপ। দু’জনকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদের পর এই সন্দেহ আরও জোরদার হচ্ছে।

আজ শিয়ালদহ আদালতে ধৃত সন্দীপ ও অভিজিতকে তোলে সিবিআই। সেখানে বিচারপতি জানতে চান, সরাসরি ধর্ষণ ও খুনের সঙ্গে এই দু’জন যুক্ত কিনা। উত্তরে সিবিআই জানায়, তাঁদের কাছে এখনও পর্যন্ত সেরকম কোনও গণধর্ষণের প্রমাণ নেই। তবে, গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, সন্দীপ ঘোষ এবং টালা থানার তৎকালীন ওসি অভিজিৎ মণ্ডল জেরায় সদুত্তর দিচ্ছেন না। তাই তাঁদের আরও তিন দিনের সিবিআই হেফাজতের আর্জি জানান গোয়েন্দারা।

পাশাপাশি, এই দু’জন ধর্ষণের পর প্রমাণ লোপাটের ষড়যন্ত্রে প্রত্যক্ষ ভাবে জড়িত ছিলেন বলে সিবিআইয়ের দাবি। মৃতদেহ উদ্ধারের পর থেকে সন্দীপ ও অভিজিতের মোবাইলে সবচেয়ে বেশি কথাবার্তা হয়েছিল বলে নাকি দেখা গিয়েছে কল ডিটেলসে। বেশ কয়েকটি ‘সন্দেহজনক’ মোবাইল নম্বরেও তাঁরা বার বার কথা বলেছেন। অনেক প্রশ্নের উত্তরেই সন্দীপ মিথ্যে কথা বলছেন বলেও জানা যাচ্ছে। ফলে, ওসি অভিজিৎ যে সন্দীপের কথায় চালিত হয়ে বেশ কিছু জিনিস গোপনের চেষ্টা করেছিলেন এবং সেই কাজে সফলও হয়েছিলেন তা মোটামুটি স্পষ্ট গোয়েন্দাদের কাছে।

মঙ্গলবারের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টও সিবিআই-এর জমা দেওয়া তদন্তের স্টেটাস রিপোর্ট দেখে মন্তব্য করেছে, ‘এটা তদন্তের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ সময় চলছে’। তবে, আরও সময় লাগবে। পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণের অভাবে তদন্তে নিষ্পত্তি আনতে সময় লাগবে বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের। এখন, সন্দীপ ও অভিজিতকে জেরা করে আরও কি তথ্য খুঁজে পান গোয়েন্দারা সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর