আরজি কর ধর্ষণ-খুন মামলায় শিরোনামে সন্দীপ ঘোষ। ঘটনার দিন তিনিই ছিলেন আরজি কর হাসপাতালের অধ্যক্ষ। কিন্তু, তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অপসারণের দাবি জানায় আন্দোলনকারীরা। সেই অনুযায়ী, সোমবার অধ্যক্ষের পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি। সঙ্গে চাকরিও ছেড়ে দেবেন বলে সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু, তাঁর সরকারি চাকরির থেকে ইস্তফাপত্র গ্রহণ করেনি স্বাস্থ্য ভবন। বরং সন্দীপকে ‘পুরষ্কৃত’ করা হয় কলকাতা ন্যশানাল কলেজের অধ্যক্ষ করে। তাও একেবারে পদত্যাগের চার ঘন্টার মধ্যে!
সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় প্রতিবাদ। মেডিক্যাল কলেজের পড়ুয়ারা অধ্যক্ষের ঘরে তালা মেরে দেন। সন্দীপকে অধ্যক্ষ হিসাবে মানা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন তাঁরা। এদিকে, কলকাতা হাই কোর্টে আরজি করের ঘটনা নিয়ে বেশ কয়েকটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়। মঙ্গলবার সেই মামলার শুনানিতে সন্দীপ ঘোষকে নিয়ে কড়া বার্তা দেয় বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম এবং হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ। সন্দীপকে ছুটি নেবার নির্দেশ দেয় আদালত। তৎক্ষণাৎ তিনি ১৫ দিনের ছুটির দরখাস্ত করেন।
আবার সন্দীপ ঘোষকে নিয়ে একগুচ্ছ অভিযোগ চিকিৎসকদের। তাঁদের দাবি সন্দীপ শাসক দলের ঘনিষ্ঠ। টাকা নিয়ে নাকি তিনি ডাক্তারির পড়ুয়াদের পাশ-ফেল করাতেন। পাশাপাশি, আরজি কর হাসপাতালও চলত সন্দীপের নিজের স্বেচ্ছাচারিতায়। এই ঘটনার পরেও আরজি করের অধ্যক্ষ হিসাবে সন্দীপের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কেন প্রথমে তাঁরা অস্বাভাবিক মৃত্যু বলে মামলা দায়ের করেন? তা নিয়ে সরব আন্দোলনকারীরা। আরও একধাপ এগিয়ে শুভেন্দু সন্দীপ ঘোষ সম্পর্কে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন।
প্রথম থেকেই প্রশ্ন ছিল, সন্দীপ ঘোষ কীভাবে এত প্রভাবশালী হয়ে উঠলেন? তাঁর মাথায় কার ‘হাত’ রয়েছে? শুভেন্দু বলেছেন, “মুখ্যমন্ত্রীর যিনি নিজস্ব চিকিৎসক। সেই চিকিৎসকের ঘনিষ্ঠ হলেন সন্দীপ ঘোষ। সেই কারণেই তাঁর এত ক্ষমতা, আর মুখ্যমন্ত্রীর যিনি ব্যক্তিগত চিকিৎসক, তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছের বন্ধু। তাঁর হাত রয়েছে সন্দীপের মাথায়। আর ওই চিকিৎসকের মেয়ে ডাক্তার না হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে সরকারি হাসপাতালে বড় পদ দেওয়া হয়েছে। নীল বাতি গাড়ি চেপে তিনি ঘোরেন।”
অন্যদিকে, আরজি করের ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদতাগের দাবি তুলেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেছেন, “এই ঘটনা সহ্য করে হবে না। নবান্ন থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাতেই হবে। আমরা বিজেপির বিধায়কেরা মুখ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং পুলিশমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগের দাবি জানাই। স্বাধীনতা দিবসে শেষবারের জন্য পতাকা তুলে বিদায় নিন উনি। আমরা ছাড়ব না। আর সঙ্গে পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল যিনি মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে কাজ করছেন তাঁর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
উল্লেখ্য, আরজি করের ঘটনায় আর তদন্ত করবে না কলকাতা পুলিশ। তদন্তভার সিবিআই-এর হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট। সমস্ত তথ্যপ্রমাণাদি আজকের মধ্যেই পুলিশকে তুলে দিতে হবে এজেন্সিকে। গত শুক্রবার আরজি করের সেমিনার হল থেকে এক তরুণী চিকিৎসকের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। ময়নাতদন্তের পর জানা যায়, তাঁকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত কেবল গ্রেফতার হয়েছেন সঞ্জয় ঘোষ নামে এক সিভিক ভলান্টিয়ার।



