বছরের শুরু থেকেই সন্দেশখালিকাণ্ডের তোলপাড় রাজ্য-রাজনীতি। বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহানের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ এনে সরব স্থানীয় মহিলারা। গত লোকসভা নির্বাচনে বসিরহাটে বিপুল ব্যবধানে জয় পেয়েছিল শাসক দল তৃণমূল, এবারও কি সেই ধারা বজায় থাকবে নাকি সন্দেশখালির (Sandeshkhali Case) হাওয়া খেলা ঘোরাবে বিপরীত দিকে? এই আসনে বিজেপি প্রার্থী হিসেবেও থাকতে পারে বড় চমক।



আরও পড়ুন: বাম-কংগ্রেস আসন সমঝোতা সম্পূর্ণ, দার্জিলিং আসনটি কংগ্রেসকে ছাড়ছে বামফ্রন্ট
গত ১০ মার্চ ব্রিগেডে তৃণমূলের জনগর্জন সভা থেকে লোকসভা ভোটের ৪২ আসনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ২০১৯-এ এই কেন্দ্র থেকে টলিউড অভিনেত্রী নুসরত জাহানকে টিকিট দিয়েছিল শাসক শিবির। বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছিলেন তিনি। তাঁকে নিয়ে নানা বিতর্ক দেখা দিয়েছে। এমনকি সন্দেশখালির সাধারণ মানুষের অভিযোগ, অশান্তির সময়ে এলাকার সাংসদকে একবারও পাশে পায়নি তাঁরা। জল্পনা ছিলই, হয়তো এবারে নুসরতকে আর টিকিট দেবে না তৃণমূল, তাই সত্যি হল। আসন্ন নির্বাচনে হাজি নুরুল ইসলামের উপর আস্থা দেখালেন মমতা-অভিষেক।

অন্যদিকে, রাজনৈতিক মহলের অন্দরে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, বসিরহাটে জাতীয় ক্রিকেট দলের বোলার মহম্মদ শামিকে প্রার্থী করতে পারে বিজেপি। এটি পদ্দম শিবিরের একটি মাস্টারস্ট্রোক হতে পারে বলেই ধারণা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের। এছাড়া নওশাদ সিদ্দিকির আইএসএফ জানিয়ে দিয়েছেন তাঁরাও বসিরহাটে লড়বে।


সন্দেশখালিকাণ্ডে ‘গরম’ বসিরহাটের হাওয়া, শাসক না বিরোধী, কে করবে বাজিমাত?

বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রের (Basirhat Loksabha) অধিকাংশই সংখ্যালঘু অধ্যুষিত, মোট ভোটের ৪৯ শতাংশ সংখ্যালঘু। বাকি ৫১ শতাংশ হিন্দু ভোট। এই লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সাতটি বিধানসভা কেন্দ্র হল- বসিরহাট দক্ষিণ, বসিরহাট উত্তর, হিঙ্গলগঞ্জ, সন্দেশখালি (Sandeshkhali), মিনাখাঁ, হাড়োয়া, বাদুড়িয়া। ১৯৫১ সালে এখানে প্রথম লোকসভা নির্বাচন হয়েছিল। জয় পেয়েছিল বামেরা। কখনওই স্থির ছিল না, বাম, কংগ্রেস থেকে সাংসদ পেয়েছে এই কেন্দ্র। ২০০৯ সালে প্রথমবার বসিরহাটে জয় পায় তৃণমূল। সেবারে তৃণমূলের প্রার্থী ছিলেন হাজি নুরুল ইসলাম। ২০১৪ সালে জয় পান তৃণমূল প্রার্থী প্রয়াত ইদ্রিশ আলি (Idrish Ali)। ২০১৯-এ তারকা প্রার্থী ছিলেন নুসরত জাহান (Nusrat Jahan)। ২৪-এ বৈতরণী পার করতে হাজি নুরুল ইসলামের উপর ভরসা রেখেছে শাসক দল। শেষ পর্যন্ত কার ভাগ্যে শিকেয় ছেড়ে, তা জানা যাবে আগামী ৪ জুন।







