ধর্ম বা পরিচয়ের গণ্ডির বাইরে মানবতার বার্তা দেওয়ার জন্য বহুবার প্রশংসিত হয়েছেন সলমন খান। সেই বলিউড তারকাকেই এবার দেখা গেল আরএসএসের শতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে। মুম্বইয়ের অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতি ঘিরে যেমন চর্চা শুরু হয়েছে, তেমনই রাজনৈতিক মহলেও তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক।
রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের শতবর্ষ উপলক্ষে মুম্বইয়ে দু’দিনের আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। শনিবারের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সলমন খান। এছাড়াও মঞ্চে দেখা যায় হেমা মালিনী ও রণবীর কাপুরকেও। কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই অনুষ্ঠানে পৌঁছন ‘ভাইজান’। তাঁকে দেখে উপস্থিতদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
সলমনের উপস্থিতিতে খুশি হন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতও। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে বলিউড তারকার জনপ্রিয়তার প্রসঙ্গ। ভাগবত বলেন, “কলেজ পড়ুয়ারা সলমন খানের ফ্যাশন অনুকরণ করে। কারণ সলমন যা করেন, তরুণরা সেটাই অনুসরণ করতে চায়। তাই সলমনের উচিত সামাজিক মূল্যবোধকেও ফ্যাশন বা ট্রেন্ডে পরিণত করা।”
অনুষ্ঠানে আরএসএসের কাজের দর্শন সম্পর্কেও বক্তব্য রাখেন সংঘপ্রধান। তাঁর দাবি, আরএসএসের কাজ বিশ্বের অন্য কোথাও দেখা যায় না। ভারতের পাশাপাশি ইউরোপ, আমেরিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকেও মানুষ এসে সংঘের কাজ দেখছেন এবং তার প্রশংসা করছেন।
ভাগবতের মতে, আরএসএসের লক্ষ্য ক্ষমতা বা জনপ্রিয়তা নয়, বরং দেশের মানুষের জন্য কাজ করা। “সংঘ নিজের জন্য নয়, পুরো ভারত ও সমাজের জন্য কাজ করে। কারও সঙ্গে বিরোধিতা না করে কাজ চালিয়ে যাওয়াই আমাদের লক্ষ্য,”—বলেন তিনি।
এদিকে, সলমন খানের এই উপস্থিতি ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। শিবসেনা নেতা সঞ্জয় রাউত দাবি করেন, ভিড় টানতে বা মুসলমানদের স্বাগত জানানো হচ্ছে—এমন বার্তা দিতেই সলমনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এটি কি মুসলমান বিরোধী রাজনীতির অংশ?
তবে এই বিতর্ক নিয়ে এখনও পর্যন্ত আরএসএস বা সলমন খানের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।



