রাশিয়ায় হঠাৎ করেই বিপাকে পড়েছেন কোটি কোটি ব্যবহারকারী। মেটার মালিকানাধীন জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম WhatsApp পুরোপুরি ব্লক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মস্কো। এই সিদ্ধান্তে দেশের প্রায় ১০ কোটিরও বেশি ব্যবহারকারী প্রভাবিত হয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে তথ্য নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করতেই পশ্চিমি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলির উপর চাপ বাড়াচ্ছে রুশ সরকার।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১১ ফেব্রুয়ারি হোয়াটসঅ্যাপ জানায়, রাশিয়ার সরকার ‘ম্যাক্স’ নামে একটি রাষ্ট্র-সমর্থিত ‘সুপার অ্যাপ’ প্রচারের লক্ষ্যে তাদের পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ করার চেষ্টা করছে। মেটার দাবি, এই পদক্ষেপ ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা ও অনলাইন নিরাপত্তার উপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।


হোয়াটসঅ্যাপ জানিয়েছে, তারা রাশিয়ার ১০ কোটিরও বেশি ব্যবহারকারীকে সংযুক্ত রাখার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে সরকারের কড়া অবস্থানের কারণে পরিষেবা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
কী এই ‘ম্যাক্স’ সুপার অ্যাপ?
রাশিয়া ‘ম্যাক্স’ নামে একটি রাষ্ট্র-চালিত সুপার অ্যাপ চালু করতে চাইছে, যা অনেকটা চীনের WeChat-এর ধাঁচে তৈরি। এই অ্যাপের মাধ্যমে বার্তা পাঠানো, অডিও-ভিডিও কল, অর্থ লেনদেন, নথি সংরক্ষণ, ব্যাংকিং পরিষেবা এবং সরকারি কাজ—সবই এক প্ল্যাটফর্মে করা যাবে বলে দাবি করা হচ্ছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমালোচকদের আশঙ্কা—এই অ্যাপ ব্যবহারকারীদের উপর নজরদারির হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। যদিও রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে।


জানা গিয়েছে, ‘ম্যাক্স’ তৈরি করেছে ভিকে (VK) নামের একটি সংস্থা, যা বর্তমানে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন। একসময় এই সংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন টেলিগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরভ। ২০১৪ সালে তিনি সংস্থার শেয়ার বিক্রি করে রাশিয়া ছাড়েন।
প্রতিবেদন বলছে, রুশ সরকার ইতিমধ্যেই স্মার্টফোন নির্মাতাদের নির্দেশ দিয়েছে, দেশে বিক্রি হওয়া ফোন ও ট্যাবলেটে এই ‘ম্যাক্স’ অ্যাপ আগে থেকেই ইনস্টল করে দিতে।
সব মিলিয়ে, পশ্চিমি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের উপর নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে এবং নিজস্ব প্রযুক্তি ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে মস্কোর এই পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।







