নজরবন্দি ব্যুরোঃ বঙ্গ বিজেপির রাশ কি এবার সঙ্ঘের হাতে? ভগবতের ডাকা বৈঠক ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে। মমতার বিপক্ষে কোন বড় মুখ দাঁড় করাতে না পারা, নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহদের বাংলার পালস বুঝতে না পারা থেকে রাজ্য বিজেপির ব্যর্থতা, রাজ্যে মুখ থুবড়ে পড়া নিয়ে এমন বিশ্লেষণই উঠে আসে খোদ আরএসএস বা রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের মুখপত্রে। আর এই অবস্থায় বাংলায় ফের একবার বিজেপির হারানো জমি ফেরাতে মরিয়া আরএসএস। আর সেই কারণে তিন দিনের বৈঠকে বসছে আরএসএসের শীর্ষ নেতৃত্ব। আর এই বৈঠকে বাংলায় বিজেপির একদিকে স্ট্র্যাটেজি কি হবে সে বিষয়ে আলোচনা হবে অন্যদিকে বাংলার ভোট পরবর্তী হিংসার প্রসঙ্গ উঠে আসবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ কাল স্টাফ ট্রেনে যাতায়াত করতে পারবেন ব্যাংক কর্মীরাও, বাড়ছে ট্রেনসংখ্যাও।
এ ছাড়া আলোচনা হবে দেশ জুড়ে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে। থার্ড ওয়েভ নিয়ে যে ভয় তৈরি হচ্ছে, সেই বিয়েও আলোচনা হবে বলে জানা গিয়েছে। আগামী ৫ জুন পর্যন্ত চলবে সেই বৈঠক। জানা গিয়েছে, ওই বৈঠকে থাকবেন আরএসএসের শীর্ষ স্তরের ১০ জন নেতা। থাকবেন দত্তাত্রেয় ওজাবালে, কৃষ্ণ গোপাল, মনমোহন বৈদ্য, মুকুন্দ, অরুণ কুমার, সুরেশ সোনি, ভাইয়াজি যোশী, ভাগা্য়া, রামদূত চক্রধর। আরএসএস প্রধান মোহন ভগবতের নেতৃত্বেও বসবে সেই বৈঠক। আরএসএস বলছে এটা আসলে রুটিন বৈঠক। আর এই বৈঠকে আগামী মাসের কর্মসূচী নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানিয়েছে আরএসএস। করোনা পরিস্থিতিতে দেশে সেবামূলক কাজ কী ভাবে করা যায় তা নিয়ে আলোচনা হবে। এদিকে প্রধান বিরোধী দল হয়েও রাজ্যে কার্যত মাজা ভেঙে গিয়েছে বিজেপি নেতৃত্বের। শুধু তাই নয়, দল ছাড়তে প্রস্তুত একাধিক নেতাও। এইন অবস্থায় বাংলার বিজেপির রাশ হাতে নিতে চাইছে আরএসএস।
অই বৈঠকে নেতৃত্ব নিয়ে বড়সড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলেও খবর। আর তাই একদিকে হারের কারণ নিয়ে পর্যালোচনা হবে অন্যদিকে আগামীদিনে আরএসএসের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে খবর। এছাড়া ভোট পরবর্তী হিংসা একটা বড় বিষয়। কর্মীরা ঘরছাড়া। এই সময় পাশে নেই নেতৃত্বও। তা হাড়েহাড়ে বুঝেছে হিন্দুত্ববাদী এই সংগঠনটি। বৈঠকে সেই বিষয়টী নিয়েও আলচনা হবে। উল্লেখ্য, দীর্ঘ দিন ধরেই বিজেপির রাজনৈতিক চালিকা শক্তি হল আরএসএস। কাকতালীয় ভাবে আরএসএসের মুখপত্রে দু’টি নিবন্ধে যা বলা হয়েছে তার সাথে মিলে যাচ্ছে রাজ্যে পুরনো বিজেপি নেতৃত্বের চিন্তা।
বঙ্গ বিজেপির রাশ কি এবার সঙ্ঘের হাতে? ভগবতের ডাকা বৈঠক ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে। সঙ্ঘের মুখপত্রে বলা হয়েছে, যে তৃণমূলের বিরুদ্ধে রাজ্যে বিজেপির মূল লড়াই, সেই দল থেকেই লাগাতার লোক ভাঙিয়ে নিয়ে আসার নীতির ফল একেবারেই ভাল হয়নি। একে ‘ব্যাড এক্সপেরিমেন্ট’ বলে আখ্যা দিয়েছে আরএসএস। যাঁদের তৃণমূল থেকে নিয়ে আসা হল, তাঁদের কার্যকারিতা যাচাই করে দেখা হয়নি বলেও সরব হয়েছে তারা। সব মিলিয়ে হারের পর এবার সঙ্ঘের অধীনেই আসতে চলেছে রাজ্য বিজেপির চালিকাশক্তি।



