ভারতের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপ ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত শুধু রাজনৈতিক বার্তা নয়, পাকিস্তান ক্রিকেটের অস্তিত্বের জন্যই বড় হুমকি—এমনই বিস্ফোরক সতর্কবার্তা দিলেন রামিজ রাজা। ICC ও BCCI-এর সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে গিয়ে পাকিস্তান যে ভয়াবহ আর্থিক সঙ্কট ডেকে আনছে, তা স্পষ্ট ভাষায় ব্যাখ্যা করলেন পাকিস্তানের প্রাক্তন অধিনায়ক তথা প্রাক্তন PCB চেয়ারম্যান। তাঁর বক্তব্যে একটাই ইঙ্গিত—ভারতের একটি সিদ্ধান্তই পাকিস্তান ক্রিকেটকে কার্যত ধ্বংস করে দিতে পারে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিয়োতে রামিজ় রাজা বিশ্লেষণ করে বলেন, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড-এর অর্থনৈতিক কাঠামো পুরোপুরি নির্ভর করে আইসিসি-র আয় বণ্টনের উপর। আইসিসি যে সব আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজন করে, সেখান থেকে প্রাপ্ত লাভ সদস্য বোর্ডগুলোর মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়। কিন্তু এই আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস কোথায়, তা নিয়ে কোনও দ্বিধা রাখেননি রামিজ়।
তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, আইসিসির মোট আয়ের প্রায় ৯০ শতাংশই আসে ভারতীয় ক্রিকেট বাজার থেকে। সম্প্রচারস্বত্ব, স্পনসরশিপ, বিজ্ঞাপন—সব ক্ষেত্রেই ভারতের প্রভাব সর্বাধিক। রামিজ় রাজা বলেন, “এক অর্থে ভারতীয় ব্যবসায়িক সংস্থাগুলিই পাকিস্তান ক্রিকেট চালিয়ে নিচ্ছে।” এখানেই তাঁর সবচেয়ে কড়া সতর্কবার্তা—যদি ভবিষ্যতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সিদ্ধান্ত নেন যে পাকিস্তানকে আর আইসিসির আয় থেকে টাকা দেওয়া হবে না, তা হলে PCB কার্যত ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।
রামিজ়ের মতে, এই বাস্তবতা অস্বীকার করে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কটের পথে হাঁটা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, পাকিস্তান ক্রিকেটকে এখনই নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। ধীরে ধীরে BCCI ও ভারতীয় বাজারের উপর নির্ভরতা কমানো ছাড়া অন্য কোনও পথ নেই। না হলে ভবিষ্যতে একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তই পুরো কাঠামো ভেঙে দিতে পারে।
এই সতর্কবার্তার মধ্যেই সামনে এসেছে আরও উদ্বেগজনক তথ্য। রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কট করলে পাকিস্তান শুধু বিশ্বকাপের রাজস্বই হারাবে না, প্রভাব পড়তে পারে দেশের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগ PSL-এর উপরও। স্পনসর ও সম্প্রচার সংস্থাগুলি মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে, যা পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য মারাত্মক ধাক্কা।
চাপে পড়ে ইতিমধ্যেই অন্য দেশের ক্রিকেট বোর্ডগুলোর কাছে সমর্থন চাইতে শুরু করেছে PCB। জানা যাচ্ছে, একাধিক বোর্ড কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কেউই পাকিস্তানের অবস্থানের পক্ষে প্রকাশ্যে দাঁড়ায়নি। উল্টে আন্তর্জাতিক মহলের বার্তা একটাই—ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হলে ক্ষতি হবে সবার, এবং তার দায় একা পাকিস্তান নিতে পারবে না।
ক্রিকেট প্রশাসনের অন্দরমহলে জোর চর্চা, এই অবস্থায় পাকিস্তান যদি অনড় থাকে, তা হলে আইসিসি তাদের সদস্যপদ সাময়িক ভাবে স্থগিত করার মতো কঠোর পদক্ষেপও নিতে পারে। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাকিস্তানের উপর চাপ বাড়ছেই। অনেকেরই ধারণা, বাস্তব পরিস্থিতি বুঝে খুব শীঘ্রই ভারত-ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বাধ্য হবে PCB।



