নজরবন্দি ব্যুরোঃ তৃণমূল কংগ্রেসে ব্যাপক কোন্দল। কার্যত নজিরবিহীন অবস্থা রাজ্যের শাসক দলে। এবার মন্ত্রী রাজীব ব্যানার্জী সরাসরি আক্রমণ করলেন অন্য এক মন্ত্রী অরুপ রায় কে। রাঘব বোয়ালদের আড়াল করা হচ্ছে ত্রান চুরি কাণ্ডে। অভিযোগ অরুপ রায় ত্রান কেলেঙ্কারির সাথে যুক্ত রাঘব বোয়ালদের আড়াল করার চেষ্টা করছেন।
আমফানের ত্রান বিলিতে দূর্নীতি কে কেন্দ্র করে হাওড়ার তিন প্রভাবশালী নেতা কে বহিষ্কার করেছে তৃণমূল। বহিষ্কৃতদের অবিলম্বে পদ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী ও তৃণমূলের হাওড়া জেলা সভাপতি(সদর) অরূপ রায়। তিনি পাশাপাশি জানিয়ে দিয়েছেন পদ না ছাড়লে আইনানুগ ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুনঃ কসবা থানায় ৭জন পুলিশ কর্মী করোনা আক্রান্ত, কনটেনমেন্ট জোন বেড়ে হল ২৮
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই জটিলতা তৈরী হয়েছে দুই মন্ত্রীর মধ্যে। রাজীব ব্যানার্জি বলেছেন, দল সিদ্ধান্ত নিয়েছিল জেলা সভাপতি ও কো-অর্ডিনেটর, দুজনে মিলে সিদ্ধান্ত নেবে এব্যাপারে। কিন্তু আমি জেলা কো-অর্ডিনেটর হওয়া স্বত্বেও আমাকে অন্ধকারে রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “হাওড়াবাসী জানেন দুর্নীতিবাজ, রাঘববোয়াল কারা। আমি চাই, চুনোপুঁটিরা দুর্নীতিগ্রস্ত হলে তাঁরাও যেমন শাস্তি পাবে সেরকম রাঘববোয়ালরাও শাস্তি পাবে।”
তাঁর কথায়, রাঘব বোয়ালদের আড়াল করা হচ্ছে ত্রান চুরি কাণ্ডে। “নেত্রীর ভাবমূর্তি কতগুলো ভুঁইফোড়দের জন্য খারাপ হবে সেটা আমি চাই না। যতদিন রাজনীতিতে থাকব, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করব।”
উল্লেখ্য কদিন আগেও রাজ্যের তিন মন্ত্রীর সামনেই চলে দলীয় অন্তর্দন্দ। শুধু তাই নয় দলীয় কর্মীরা আঁটকে রাখেন দুই মন্ত্রী কে! ঘটনাস্থল ছিল জলপাইগুড়ির ময়না গুড়ি। দলের বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন তখন রাজ্যের তিন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, গৌতম দেব ও মলয় ঘটক। তাঁদের উপস্থিতিতে জেলা ও ব্লক স্তরের কমিটি তৈরি করা হয়।
এরপর কমিটিতে জায়গা পাওয়া দলের সদস্যদের নাম ঘোষণা হয়। ব্যাস নাম ঘোষণার সাথে সাথেই বিক্ষোভে ফেটে পরেন দলের কর্মীরা। উপস্থিত তিন মন্ত্রীর সামনেই চলতে থাকে ব্যাপক বিক্ষোভ।
পরিস্থিতির ওপর নিয়ন্ত্রন হারান দলের মন্ত্রীরা। উত্তপ্ত পরিস্থিতি দেখে ঘটনাস্থল থেকে কোন মতে বেরিয়ে যান মন্ত্রী গৌতম দেব। কিন্তু আঁটকে পড়েন মলয় ঘটক এবং অরুপ বিশ্বাস।
তাঁদের ঘেরাও করে রাখেন তৃণমূল কর্মীরা। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করে। এবং মন্ত্রীদের মুক্ত করে নিয়ে আসেনঘটনাস্থল থেকে। এদিন ৩ মন্ত্রীর সামনেই দলের অন্য নেতা তথা মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নামে জয়ধ্বনি দিতে থাকেন দলের কর্মীরা! তাঁরা স্লোগান তোলেন, “শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়িতে দল চলছে চলবে বলেই চলল চিৎকার।”



