ফাঁসিদেওয়ার রাঙাপানি স্টেশনের কাছে সোমবার সকাল ৮টা ৫০ মিনিট নাগাদ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসে ধাক্কা মারে একটি মালগাড়ি। এই ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের। আহত বহু। আপাতত শেষ হয়েছে উদ্ধারকাজ। ঘটনাস্থলে আসেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈশ্বব। একটি পরিসংখ্যান বলছে, গত চার বছরে ২৬টি রেল দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে গোটা দেশে। ফলে, অনেকগুলো প্রশ্ন উঠছে। আজকের এই দুর্ঘটনার কারণ জানিয়েছেন রেল বোর্ডের সিইও জয়া ভার্মা।আরও পড়ুন: বিমান-বিভ্রাট কাটিয়ে উত্তরবঙ্গ হাসপাতালে মুখ্যমন্ত্রী, খোঁজ নিলেন রেল দুর্ঘটনায় আহতদের
প্রাথমিক তদন্তের পর রেলের দাবি, এই দুর্ঘটনা হয়েছে মালগাড়িটির জন্য। সিগন্যাল লাল থাকা সত্ত্বেও চালক গাড়ি থামাননি এবং দাঁড়িয়ে থাকা কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের পেছনে ধাক্কা মারেন। যদিও এই ঘটনায় মালগাড়ির চালক ও সহ-চালক দু’জনেরই মৃত্যু হয়েছে। সিগন্যাল না দেখেই মালগাড়ির চালক কেন এগিয়ে গেলেন তাহলে কি তিনি ঘুমিয়ে পড়েছিলেন? এধরনের নানান প্রশ্ন উঠছে। যদিও রেল জানিয়েছে, তদন্ত সম্পূর্ণ হলে তবেই আসল কারণ জানা যাবে।



কিন্তু, এভাবে চালকের নামে দোষ গিয়ে গা বাঁচাতে চাইছে রেল এরকম প্রশ্নও তুলছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অ্যান্টি কলিশন ডিভাইস নিয়ে সরব হয়েছেন। লাগাতার এত দুর্ঘটনার পর এমন কোনও সিস্টেম কেন নেই যে একই লাইনে দু’টো ট্রেন চলে আসছে? দিনের পর দিন ভাড়া বাড়ছে দুরপাল্লার ট্রেনের। সেখানে যাত্রী সুরক্ষা যে আরও মজবুত করা দরকার তা বলাই বাহুল্য।
সিগন্যাল লাল থাকা সত্ত্বেও থামায়নি, দুর্ঘটনায় মৃত মালগাড়ির চালকেরই দোষ দেখছে রেল



কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস দুর্ঘটনায় আলোড়িত সারা দেশ। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সকলেই দুঃখপ্রকাশ করেছেন। বিরোধীদের তরফে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের পদত্যাগের দাবি করা হয়েছে। এই দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারকে দেওয়া হবে ১০ লক্ষ টাকা, গুরুতর আহতদের দেওয়া হবে আড়াই লক্ষ টাকা এবং তুলনায় কম আহতদের দেওয়া হবে ৫০ হাজার টাকা, ঘোষণা করেছে রেলমন্ত্রক।








