বেঙ্গালুরুতে বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে ধরপাকড় শুরু হতেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘিতে এসে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগ উঠল ১০ বাংলাদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে। বুধবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে নগেন্দ্রপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করে রায়দিঘি থানার পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন ৫ জন পুরুষ, ৩ জন মহিলা এবং ২ শিশু। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁদের হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানো হয়েছে এবং নিয়ম মেনে বাংলাদেশে পুশব্যাকের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত ১০ জন একই পরিবারের সদস্য। তাঁদের বাড়ি বাংলাদেশের ফিরোজপুরে বলে জেরায় জানিয়েছেন তাঁরা। প্রায় ছয় বছর আগে অবৈধ ভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন ওই পরিবারের সদস্যরা।
এর পর কাজের সন্ধানে তাঁরা চলে যান বেঙ্গালুরুতে। সেখানে ভাঙরির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন তাঁরা। সম্প্রতি বেঙ্গালুরুতে বাংলাদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে ধরপাকড় শুরু হয়েছে বলে খবর পান তাঁরা। এরপরই সেখান থেকে পালিয়ে পশ্চিমবঙ্গে চলে আসার সিদ্ধান্ত নেন।
প্রায় এক সপ্তাহ আগে বেঙ্গালুরু ছেড়ে ওই পরিবার রায়দিঘিতে পৌঁছয়। নগেন্দ্রপুরে তাঁদের এক আত্মীয়ের বাড়ি রয়েছে। পুলিশের দাবি, সেখানেই গত কয়েক দিন ধরে লুকিয়ে ছিলেন ১০ জন। বাইরে খুব বেশি না বেরিয়ে আত্মীয়ের বাড়িতেই ছিলেন তাঁরা।
বুধবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রায়দিঘি থানার পুলিশ নগেন্দ্রপুরে অভিযান চালায়। সন্দেহজনক গতিবিধি খতিয়ে দেখার পর আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ১০ জনকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের পরিচয় ও ভারতে থাকার বৈধতা নিয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আটক প্রত্যেকের কাছেই বাংলাদেশের National ID Card রয়েছে। নথিপত্র পরীক্ষা এবং জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁদের বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ভারতে তাঁদের প্রবেশ এবং গত ছয় বছরের গতিবিধি নিয়েও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
জেরায় ওই পরিবারের সদস্যরা বেঙ্গালুরুতে ভাঙরির কাজ করার কথা জানিয়েছেন। সেখানে পুলিশি ধরপাকড়ের আতঙ্কেই তাঁরা বেঙ্গালুরু ছেড়ে রায়দিঘিতে চলে আসেন বলে দাবি পুলিশের। এক সপ্তাহ আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেওয়ার পর শেষ পর্যন্ত পুলিশের অভিযানে তাঁদের আটক করা হয়।
আটক ১০ জনের শারীরিক পরীক্ষা করানো হয়েছে। এরপর তাঁদের লক্ষ্মীকান্তপুরের হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। সেখান থেকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।
তবে তাঁদের বিরুদ্ধে ভারতে প্রবেশের সময় কোনও দালালচক্র সক্রিয় ছিল কি না, কোথা দিয়ে তাঁরা সীমান্ত পার করেছিলেন এবং গত ছয় বছরে কোথায় কোথায় ছিলেন—সেই তথ্যও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। একই পরিবারের ১০ জন একসঙ্গে অবৈধ ভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন কি না, সেই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
রায়দিঘিতে তাঁদের আত্মীয় কী ভাবে তাঁদের আশ্রয় দিয়েছিলেন এবং ওই পরিবারের আরও কোনও সদস্য বা পরিচিত ব্যক্তি এই রাজ্যে রয়েছেন কি না, তাও জানার চেষ্টা চলছে। পুলিশের তদন্তে তাঁদের গত কয়েক বছরের অবস্থান ও যোগাযোগের আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।
বেঙ্গালুরু থেকে রায়দিঘি পর্যন্ত ওই পরিবারের যাত্রাপথ নিয়েও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে বেঙ্গালুরুতে ধরপাকড়ের খবর কী ভাবে তাঁদের কাছে পৌঁছল এবং কী ভাবে তাঁরা সরাসরি রায়দিঘির আত্মীয়ের বাড়িতে এসে পৌঁছলেন, তা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘিতে একই পরিবারের ১০ বাংলাদেশি নাগরিক আটকের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আপাতত তাঁদের হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়েছে। নথি যাচাই ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।



