ভয়াবহ ভূমিধসে বিপর্যস্ত কেরলের ওয়েনাড়। ঈশ্বরের আপন দেশেই আজ ধ্বংসের প্রলাপ! ভূমিধসের কারণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩০২। নিখোঁজ শতাধিক। আহত প্রচুর। একের পর এক গ্রাম জলের নীচে তলিয়ে গিয়েছে। এই মুহূর্তে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে চলছে উদ্ধারকাজ। বৃহস্পতিবার ওয়েনাড়ের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে গেলেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী এবং ওয়েনাড়ের সম্ভাব্য কংগ্রেস প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী।
বুধবারই ওয়েনাড়ে পৌঁছতে চেয়েছিলেন রাহুল এবং প্রিয়ঙ্কা। কিন্তু বিপর্যয়স্থলে হেলিকপ্টার নামানো সম্ভব ছিল না বলে বৃহস্পতিবার সেখানে পৌঁছলেন দু’জন। এদিন ধ্বংসস্তূপ ঘুরে দেখার পাশাপাশি ত্রাণ শিবিরে যান রাহুল এবং প্রিয়াঙ্কা। সেখানে অসহায় পরিবারগুলির সঙ্গে কথা বলেন তাঁরা। প্রিয়াঙ্কা আলাদা করে যান হাসপাতালে। আশ্বাস দেন সবরকম সহযোগিতা করার।



রাহুল গান্ধী বলেন, “এখন রাজনীতি করার সময় নয়। এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিত দেখে আমার অত্যন্ত খারাপ লাগছে। আমি চাই কেন্দ্র সরকার এই সমস্যার সমাধান করুক। এত মানুষের প্রাণ চলে গেল। আমার মনে পড়ছে বাবার মৃত্যুদিন। সেদিনও এরকম মন খারাপ হয়েছিল। আর এখানের মানুষ তো শুধু বাবা নয়, অনেকেই গোটা পরিবারকে হারিয়ে ফেলেছে। কারুর কারুর বাবা, ভাই, বোন মারা গিয়েছেন। পরিবারের একজন বেঁচে রয়েছেন। এটা সত্যিই যন্ত্রণার।”
লোকে বলে কেরল ঈশ্বরের আপন দেশ। কারণ, ভগবান নাকি কেরলকে খুব যত্ন করে সাজিয়েছেন! ধ্বংসস্তূপে পরিণত ওয়েনাড়। চেনা ছবিটাই বদলে গিয়েছে। রাস্তা দিয়ে বয়ে চলেছে নদী। অস্থায়ী ব্রিজ তৈরি করে চলছে উদ্ধারকাজ। সেনাবাহিনীর কর্মী, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), কেরলের বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের কর্মী, রাষ্ট্রীয় জরুরি পরিষেবার কর্মী এবং সেখানের সাধারণ মানুষ উদ্ধারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।


পশ্চিমঘাট পর্বতের পাশের চারটি গ্রাম কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। বাড়িঘর, কফির বাগান হাজার হাজার টন পাথর এবং কাদার স্তূপের নীচে। স্থানীয় চার্চ, স্কুল-কলেজের যা অবশিষ্ট আছে, সেই সব কিছুকেই ব্যবহার করা হচ্ছে দুর্গতদের আশ্রয়স্থল এবং চিকিৎসার জন্য। কাদামাটি সরিয়ে চলছে প্রাণের কাজ। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।








