অমিত শাহ মন্তব্যে মানহানি মামলা: সুলতানপুর আদালতে হাজির রাহুল গান্ধী, অভিযোগ ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’

অমিত শাহকে ঘিরে মন্তব্যের জেরে মানহানি মামলায় সুলতানপুর আদালতে হাজির রাহুল গান্ধী। অভিযোগ অস্বীকার করে বললেন, মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে ঘিরে করা মন্তব্যের জেরে দায়ের হওয়া মানহানি মামলায় উত্তরপ্রদেশের সুলতানপুর আদালতে হাজিরা দিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই মামলার গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে দাঁড়িয়ে আদালতে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে কংগ্রেস নেতা দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বাস্তব ভিত্তিহীন।

শুক্রবার সকালে লখনৌ বিমানবন্দরে পৌঁছন রাহুল গান্ধী। সেখানে কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকদের ভিড় দেখা যায়। সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ তিনি সুলতানপুরের এমপি-এমএলএ আদালতে পৌঁছন। আদালত চত্বরে সমর্থকদের স্লোগান ও অভ্যর্থনার মধ্যেই হাসিমুখে ভিতরে প্রবেশ করেন তিনি। মালা পরানোর চেষ্টা করা হলেও তা বিনয়ের সঙ্গে এড়িয়ে যান রাহুল।

- Advertisement -

আদালতে তাঁর আইনজীবীরা জানান, রাহুল গান্ধী অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, বিজেপির অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই এবং রাজনৈতিক বিদ্বেষ থেকেই এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুনানি শেষে বিচারপতিকে ধন্যবাদ জানিয়ে আদালত ত্যাগ করেন তিনি।

এই মামলার সূত্রপাত ২০১৮ সালে। কর্নাটক বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে রাহুল গান্ধী বিজেপি নেতৃত্বকে আক্রমণ করে মন্তব্য করেছিলেন, “সৎ রাজনীতির কথা বলা বিজেপির সভাপতি একজন খুনের মামলায় অভিযুক্ত।” সেই সময় অমিত শাহ বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি ছিলেন। মন্তব্যটি অপমানজনক বলে অভিযোগ করে বিজেপি নেতা বিজয় মিশ্র মানহানির মামলা দায়ের করেন।

পরবর্তীতে সুলতানপুরের এমপি-এমএলএ আদালতে মামলার শুনানি শুরু হয় এবং রাহুল গান্ধীকে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ে হাজিরা না দেওয়ায় ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি হয়েছিল। পরে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে আদালতে আত্মসমর্পণ করে ৫০ হাজার টাকার বন্ডে জামিন পান তিনি।

ইতিমধ্যে অভিযোগকারী ও সাক্ষীদের জেরা সম্পন্ন হয়েছে। এবার রাহুলের ব্যক্তিগত জবানবন্দির জন্যই তাঁকে আদালতে ডাকা হয়েছিল। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে আগামী ৯ মার্চ।

- Advertisement -

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি এই মামলা জাতীয় রাজনীতিতেও নতুন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর