বাংলাদেশে অচলাবস্থা। ছাত্র আন্দোলনের জেরে ১৫ বছরের আওয়ামী লিগ সরকারের পতন হল সোমবার। প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন শেখ হাসিনা। এই মুহূর্তে তিনি আশ্রয় নিয়েছেন ভারতে। এবার বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুললেন দেশের বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। কেন্দ্র সরকারের কাছে তিনি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রাখার পাশাপাশি আগামী দিনে ভারতের বিদেশনীতি কী হতে চলেছে তা জানতে চাইলেন কংগ্রেস সাংসদ।
মঙ্গলবার বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে একটি সর্বদলীয় বৈঠক ডাকে কেন্দ্র সরকার। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ, সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু প্রমুখ। এই বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর। বৈঠকে রাহুল গান্ধী সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, বাংলাদেশের এই পরিস্থিতির সঙ্গে পাকিস্তানের কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না। জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখবে কেন্দ্র সরকার, তবে সন্দেহ একাবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। রাহুলের এই পাক যোগ সন্দেহের কারণ, বাংলাদেশে আন্দোলন চলাকালীন একাধিক বার সমাজমাধ্যমে প্রোফাইলের ছবি বদলেছেন জনৈক এক পাক কূটনীতিবিদ!


এছাড়াও রাহুল প্রশ্ন করেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে পটপরিবর্তন ঘটলে ভারতে তা কি প্রভাব পড়বে এবং আগামী দিনে ভারতের বিদেশনীতিতে কোনও বদল আসবে কিনা? এই প্রশ্নের উত্তরে জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, বাংলাদেশের সেনার সঙ্গে দিল্লি নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে আর বাংলাদেশের ক্ষমতা কার হাতে থাকে তা বিচার বিবেচনা করেই আগামী দিনে সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্র সরকার।
দেশের বিরোধী দলনেতা শেষ প্রশ্নে জানতে চান, বাংলাদেশের এই পরিস্থিতি সম্পর্কে ভারত আগে থেকে জানত কিনা? এই প্রশ্নের কোনও উত্তর দেননি বিদেশমন্ত্রী। জানা গিয়েছে, ভারতের ২০,০০০ পড়ুয়ার মধ্যে ৮,০০০ জনকে ইতিমধ্যেই ফিরিয়ে আনা হয়েছে দেশে। অন্যদিকে, আজকের বৈঠকে সমস্ত বিরোধী দলের নেতারা কেন্দ্র সরকারের সিদ্ধান্তকেই সমর্থন জানিয়েছেন বলে সূত্রের লখবর।







