আগে থেকে পরিকল্পনা করেই কি আরজি করের চেস্ট মেডিসিন বিভাগের ওই তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুন করা হয়েছে নাকি আচমকাই যৌন লালসার বশে একাই অভিযুক্ত সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায় এই জঘন্য অপরাধ ঘটিয়েছেন? এটাই এখন বড় প্রশ্ন সিবিআই-এর কাছে। শুধু গোয়েন্দাদের কাছেই নয়, আপামর রাজ্যবাসী এখন জানতে চায় মূল ঘটনা। কীভাবে এবং কেন ওই তরুণী চিকিৎসকের এই পরিণতি হল?
তিন দিনের সিবিআই হেফাজত শেষে শুক্রবার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ এবং টালা থানার তৎকালীন ওসি অভিজিৎকে শিয়ালদহ আদালতে হাজির করানো হয়। সেখানেই বিচারপতি সিবিআই-এর কাছে এই প্রশ্ন জানতে চান। গোয়েন্দারা বলেছেন, এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রমাণ না থাকলেও আশঙ্কা একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে, সন্দীপ এবং অভিজিৎ যে অনেক প্রশ্নের সদুত্তর দিচ্ছেন না তা স্বীকার করে নিয়েছে সিবিআই।
আন্দোলনরত জুনিয়র চিকিৎসকেরা যে অভিযোগ বারবার করছেন যে, হাসপাতালগুলিতে থ্রেট কালচার চলত যেখানে ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায়না। নির্যাতিতার বাবা-মা সাফ জানিয়েছেন, মৃত্যুর আগে তাঁদের মেয়ে জানিয়েছিলেন, আর জি করে কাজ করতে তাঁর ভালো লাগে না। তাহলে কি পরিকল্পনা করেই এই ঘৃণ্য অপরাধ ঘটানো হয়েছে? কী এমন জানতে পেরেছিলেন তিনি?
এই বিষয়েও আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের একাধিক তথ্য উঠে এসেছে। হাসপাতালের মর্গ থেকে মৃতদেহ বিক্রি থেকে শুরু করে ওষুধ, যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য চিকিৎসা সামগ্রী বাইরে পাচার হত। তাছাড়া মর্গে চলত মৃতদেহের সঙ্গে অবাধ যৌনতা। সেই ভিডিয়ো তুলে পর্ন সাইটে বিক্রি করা হত। এবার এটা পরিকল্পিত খুন ধর্ষণ নাকি সেই রহস্যের কিনারা করতে চায় সিবিআই।
অন্যদিকে, তদন্তের স্বার্থে সিবিআই সন্দীপদের আরও পাঁচ দিন নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার জন্য আবেদন করে। বিচারক সেই আবেদন মঞ্জুর করেন। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সন্দীপদের সিবিআই হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে শিয়ালদহ আদালত।



