প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে, আবার আন্দোলনে হবু শিক্ষকরা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে, আন্দোলনে নামছেন রাজ্যের হাজারো হবু শিক্ষক। তাঁদের অভিযোগ, রাজ্যের স্কুল সার্ভিস কমিশনের ইতিহাসে এত দীর্ঘ অপেক্ষা এর আগে কখনো কোনো শিক্ষকতার পদপ্রার্থীকে করতে হয়নি। নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত হয়। তারপর দীর্ঘ এক বছর টালবাহানা করে কোন আপডেট ভ্যাকেন্সি ছাড়াই মেরিট লিস্ট প্রকাশিত হয়।

আরও পড়ুনঃ প্রয়াত পর্দার প্রথম ফেলুদা। স্থগিত ‘ফেলুদা ফেরত’-এর ট্রেলার মুক্তি।

চাকরিপ্রার্থীরা বলছেন, সেই মেরিট লিস্ট কে ঠিক মেরিট লিস্ট বলা যায়না কারণ সেখানে কেবলমাত্র পরীক্ষার্থী তার রোল নাম্বার ও ডেট অফ বার্থ দিয়ে নিজের রেজাল্ট দেখতে পাচ্ছিলেন। সেখানে পরীক্ষার্থী কোন তালিকা বা লিস্ট দেখতে পাচ্ছিলেন না। ফলে তারা দেখতে পাচ্ছিলেন না সামনে ও পেছনে কারা আছেন, তাদের র‍্যাঙ্ক কত? তারা লিখিত পরীক্ষা ও ইন্টারভিউতে কত নাম্বার পেয়েছেন? মোট কত নাম্বার পেয়েছেন? ইত্যাদি।

এমনকি পরীক্ষার্থী নিজেও নিজের লিখিত পরীক্ষা ও ইন্টারভিউতে কত নাম্বার পেয়েছেন, মোট কত নাম্বার পেয়েছেন তা জানতে পারছিলেননা। যদিও আজও তা জানেননা তারা। সেখান থেকেই শুরু হয় পরীক্ষার্থী বনাম কমিশনের প্রথম মতবিরোধ যা আজও চলছে।যেহেতু স্কুল সার্ভিস কমিশন পরীক্ষা সংক্রান্ত নোটিফিকেশনে পূর্ণাঙ্গ মেধা তালিকা প্রকাশের কথা বলেছিল তাই সেই তালিকা না পেয়ে পরীক্ষার্থীরা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়। পরবর্তীকালে হাইকোর্টের আদেশ অনুসারে স্কুল সার্ভিস কমিশন পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করতে বাধ্য হয়।

চাকরিপ্রার্থীরা জানিয়েছেন, সেই তালিকায় সুকৌশলে কে কত নাম্বার পেয়েছেন ও প্রত্যেকের মোট নাম্বার কত তা তারা সেই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেনি। দ্বিতীয় মতবিরোধ এর কারণ পরীক্ষা সংক্রান্ত নোটিফিকেশনে আপডেট ভ্যাকেন্সির কথা বলা থাকলেও কোনভাবেই কমিশন ভ্যাকেন্সি আপডেট করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেনি।

তৃতীয় মতবিরোধ এর কারণ হাইকোর্টের আদেশে কমিশন মেধা তালিকা প্রকাশ করলে সেই তালিকায় ধরা পড়ে কমিশনের পরীক্ষা সংক্রান্ত নোটিফিকেশনের সঙ্গে তালিকার বহু হেরফের বা অসঙ্গতি। কমিশন তার পরীক্ষা সংক্রান্ত নোটিফিকেশনে বলেছিল যে, প্যানেল তৈরি হবে তা হবে শূন্য পদের ভিত্তিতে ১:১.৪ অনুপাতে। কিন্তু হাইকোর্টের নির্দেশে মেরিট লিস্ট প্রকাশিত হওয়ার পর দেখা যায় নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর কোন বিষয়েই মেধা তালিকা ও অপেক্ষরত প্রার্থীর তালিকা ১:১.৪ অনুপাতে করা হয়নি। প্রায় সমস্ত ক্ষেত্রেই মেধাতালিকার থেকে অপেক্ষমান প্রার্থী তালিকা দ্বিগুণ, তিনগুণ এমনকি কোথাও কোথাও বহুগুণ দীর্ঘ। এমনকি কিছু কিছু বিষয়ে, কিছু কিছু ক্যাটাগরিতে ভ্যাকেন্সি একটি বা দুটি থাকলেও অপেক্ষামান প্রার্থী সেখানে ৭৫ বা ১০০ জন আছেন।

কমিশনের এই সমস্ত গাফিলতি হবু শিক্ষক পদ প্রার্থীদের দীর্ঘ বঞ্চনার আগুনে ঘৃতাহুতির কাজ করে। তাই তারা ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়ে রাজপথে, নিজেদের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে। ২০১৯ সালের মার্চ মাসে কলকাতার প্রেসক্লাবের সামনে মেয়ো রোডের পাশে শুরু হয় দীর্ঘ ২৯ দিন ব্যাপী অনশন কর্মসূচি। সেই অনশন কর্মসূচির ২৯ তম দিনে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী ও শিক্ষা মন্ত্রী উপস্থিত হন। মুখ্যমন্ত্রী সেই অনশন মঞ্চে মাইক্রোফোন হাতে সর্বসমক্ষে, অনশনরত শিক্ষক পদপ্রার্থীদের ও সাংবাদিকদের সামনে প্রতিশ্রুতি দেন যে সমস্ত শিক্ষক পদপ্রার্থীদের তিনি নিয়োগের ব্যবস্থা করবেন।

সেই সময় চলতে থাকা লোকসভা ভোট ও নির্বাচন কমিশনের আইনে কিছু বাধ্যবাধকতা আছে। তাই লোকসভা ভোট সুষ্ঠু ভাবে মিটে যাওয়ার পর তিনি নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর অপেক্ষমান সমস্ত শিক্ষক পদপ্রার্থীদের শিক্ষকতা ব্যবস্থা করবেন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর কথামতো অনশন মঞ্চ থেকে ৫ কমিটি তৈরি হলেও পরবর্তীকালে তার কোন ফলাফল নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর অপেক্ষমান শিক্ষক পদপ্রার্থীর পাননি। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী তাঁর প্রতিশ্রুতি রাখেননি। তাই ২০২০ সালের এই কভিড-১৯ পরিস্থিতিতে, সমস্ত কভিড আইন মেনে ও যথাযথ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পারমিশন নিয়ে নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর অপেক্ষমান শিক্ষক পদপ্রার্থীরা ধর্মতলার পাশে, মেয়ো রোডের ধারে, গান্ধী মূর্তির পাদদেশে আগামী ১৪ ই নভেম্বর এক বিশাল শান্তিপূর্ণ ধর্না কর্মসূচি নিয়েছেন।

প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে, আবার আন্দোলনে নামছেন হবু শিক্ষকরা। এই আন্দোলনের উদ্দেশ্য হলো মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানানো যে আপনি আপনার প্রতিশ্রুতি পালন করুন এবং সমস্ত যোগ্য মেরিট লিস্টেড ওয়েটিং শিক্ষক পদপ্রার্থীদের নিয়োগ দিন। দীর্ঘ ৬/৭ বছর নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীতে নিয়োগ না হওয়ার জন্য যে বিপুল পরিমাণ শূন্য পদের সৃষ্টি হয়েছে সেখানে এই অপেক্ষমান প্রার্থীদের নিয়োগ দিন। বিপুল পরিমাণ ভ্যাকেন্সি ও যোগ্য পদপ্রার্থী দুই আছে তাই মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী আপনার প্রতিশ্রুতি মত সমস্ত অপেক্ষমান শিক্ষক প্রার্থীদের নিয়োগ দিন।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন