কথা দিয়েও তা রাখেননি স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী? ফের আন্দোলনে হবু শিক্ষকরা।

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরো: কথা দিয়েও তা রাখেননি স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী? বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়েই গতবছর মার্চে কলকাতা প্রেস ক্লাবের সামনে অনশনে বসেছিল হবু শিক্ষকেরা। দীর্ঘ ২৯ দিন ধরে চলেছিল, তাদের এই অনশন কর্মসূচী। অনশন চলাকালীনই মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী স্বয়ং উপস্থিত হন। তাদের কথা দেওয়া হয়, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেনীর সমস্ত আপেক্ষমান শিক্ষক পদপ্রার্থীদের তিনি শিক্ষকতার কাজে নিযুক্ত করবেন। অভিযোগ, দেড়বছর কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত কোনো প্রতিশ্রুতিই পালন করেনি রাজ্যসরকার। তাই আগামী ১৭ ডিসেম্বর ফের কলকাতার রানী রাসমনি রোডে ধর্নায় বসবেন তাঁরা।

আরও পড়ুনঃ আলোচনা করতে রাজি, তবে শর্ত আছে! শুভেন্দু-জিতেন্দ্র-সুনীলের বৈঠক বার্তা।

হবু শিক্ষকদের অভিযোগ, রাজ্যের স্কুল সার্ভিস কমিশনের ইতিহাসে এত দীর্ঘ অপেক্ষা এর আগে কখনো কোনো শিক্ষকতার পদপ্রার্থীকে করতে হয়নি। নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত হয়। তারপর দীর্ঘ এক বছর টালবাহানা করে কোন আপডেট ভ্যাকেন্সি ছাড়াই মেরিট লিস্ট প্রকাশিত হয়।চাকরিপ্রার্থীরা বলছেন, সেই মেরিট লিস্ট কে ঠিক মেরিট লিস্ট বলা যায়না কারণ সেখানে কেবলমাত্র পরীক্ষার্থী তার রোল নাম্বার ও ডেট অফ বার্থ দিয়ে নিজের রেজাল্ট দেখতে পাচ্ছিলেন। সেখানে পরীক্ষার্থী কোন তালিকা বা লিস্ট দেখতে পাচ্ছিলেন না। ফলে তারা দেখতে পাচ্ছিলেন না সামনে ও পেছনে কারা আছেন, তাদের র‍্যাঙ্ক কত? তারা লিখিত পরীক্ষা ও ইন্টারভিউতে কত নাম্বার পেয়েছেন? মোট কত নাম্বার পেয়েছেন? ইত্যাদি।

এমনকি পরীক্ষার্থী নিজেও নিজের লিখিত পরীক্ষা ও ইন্টারভিউতে কত নাম্বার পেয়েছেন, মোট কত নাম্বার পেয়েছেন তা জানতে পারছিলেননা। যদিও আজও তা জানেননা তারা। সেখান থেকেই শুরু হয় পরীক্ষার্থী বনাম কমিশনের প্রথম মতবিরোধ যা আজও চলছে।যেহেতু স্কুল সার্ভিস কমিশন পরীক্ষা সংক্রান্ত নোটিফিকেশনে পূর্ণাঙ্গ মেধা তালিকা প্রকাশের কথা বলেছিল তাই সেই তালিকা না পেয়ে পরীক্ষার্থীরা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়। পরবর্তীকালে হাইকোর্টের আদেশ অনুসারে স্কুল সার্ভিস কমিশন পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করতে বাধ্য হয়।

চাকরিপ্রার্থীরা জানিয়েছেন, সেই তালিকায় সুকৌশলে কে কত নাম্বার পেয়েছেন ও প্রত্যেকের মোট নাম্বার কত তা তারা সেই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেনি। দ্বিতীয় মতবিরোধ এর কারণ পরীক্ষা সংক্রান্ত নোটিফিকেশনে আপডেট ভ্যাকেন্সির কথা বলা থাকলেও কোনভাবেই কমিশন ভ্যাকেন্সি আপডেট করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেনি।তৃতীয় মতবিরোধ এর কারণ হাইকোর্টের আদেশে কমিশন মেধা তালিকা প্রকাশ করলে সেই তালিকায় ধরা পড়ে কমিশনের পরীক্ষা সংক্রান্ত নোটিফিকেশনের সঙ্গে তালিকার বহু হেরফের বা অসঙ্গতি। কমিশন তার পরীক্ষা সংক্রান্ত নোটিফিকেশনে বলেছিল যে, প্যানেল তৈরি হবে তা হবে শূন্য পদের ভিত্তিতে ১:১.৪ অনুপাতে। কিন্তু হাইকোর্টের নির্দেশে মেরিট লিস্ট প্রকাশিত হওয়ার পর দেখা যায় নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর কোন বিষয়েই মেধা তালিকা ও অপেক্ষরত প্রার্থীর তালিকা ১:১.৪ অনুপাতে করা হয়নি। প্রায় সমস্ত ক্ষেত্রেই মেধাতালিকার থেকে অপেক্ষমান প্রার্থী তালিকা দ্বিগুণ, তিনগুণ এমনকি কোথাও কোথাও বহুগুণ দীর্ঘ। এমনকি কিছু কিছু বিষয়ে, কিছু কিছু ক্যাটাগরিতে ভ্যাকেন্সি একটি বা দুটি থাকলেও অপেক্ষামান প্রার্থী সেখানে ৭৫ বা ১০০ জন আছেন।

কথা দিয়েও তা রাখেননি স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী? কমিশনের এই সমস্ত গাফিলতি হবু শিক্ষক পদ প্রার্থীদের দীর্ঘ বঞ্চনার আগুনে ঘৃতাহুতির কাজ করে। তাই তারা ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়ে রাজপথে, নিজেদের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে। ২০১৯ সালের মার্চ মাসে কলকাতার প্রেসক্লাবের সামনে মেয়ো রোডের পাশে শুরু হয় দীর্ঘ ২৯ দিন ব্যাপী অনশন কর্মসূচি। সেই অনশন কর্মসূচির ২৯ তম দিনে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী ও শিক্ষা মন্ত্রী উপস্থিত হন। মুখ্যমন্ত্রী সেই অনশন মঞ্চে মাইক্রোফোন হাতে সর্বসমক্ষে, অনশনরত শিক্ষক পদপ্রার্থীদের ও সাংবাদিকদের সামনে প্রতিশ্রুতি দেন যে সমস্ত শিক্ষক পদপ্রার্থীদের তিনি নিয়োগের ব্যবস্থা করবেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত নিয়োগ না হওয়ায় ফের আন্দোলনে নামছেন হবু শিক্ষকরা। আগামী ১৭ ডিসেম্বর ফের কলকাতার রানী রাসমনি রোডে ধর্নায় বসবেন তাঁরা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর