নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ২ ঘণ্টার বৈঠক, কী কথা হল? নিজেই জানালেন প্রসেনজিৎ

নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের পর মুখ খুললেন অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। স্পষ্ট জানালেন, এটি ছিল সৌজন্য সাক্ষাৎ। রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে টলিউডের উন্নয়ন ও মহানায়ক উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ নিয়ে আলোচনার কথা জানান তিনি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে প্রায় দু’ঘণ্টার বৈঠক ঘিরে যখন রাজনৈতিক জল্পনা তুঙ্গে, তখন নিজেই সেই জল্পনায় জল ঢাললেন টলিউডের ‘ইন্ডাস্ট্রি’ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নবান্ন থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিনেতা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই বৈঠক সম্পূর্ণ সৌজন্যমূলক ছিল এবং সেখানে কোনও রাজনৈতিক আলোচনা হয়নি।

বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন প্রসেনজিৎ। বৈঠক শেষে তিনি বলেন, “বাজারে যে সমস্ত খবর ছড়ানো হচ্ছে, তার কোনও ভিত্তি নেই। বর্তমানে কোনও রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা আমার নেই। ভবিষ্যতে যদি কখনও এমন কোনও সিদ্ধান্ত নিই, তাহলে সবার আগে সংবাদমাধ্যমকেই জানাব।”

- Advertisement -

প্রসঙ্গত, কয়েক দিন আগেই অভিনেতার বালিগঞ্জের বাসভবনে গিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক এবং বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়। সেই সাক্ষাতের পর থেকেই প্রসেনজিতের সম্ভাব্য রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়। এরপর নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বৈঠক সেই আলোচনা আরও উসকে দেয়।

তবে অভিনেতা স্পষ্ট করেন, বৈঠকে মূলত বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি মহানায়ক উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েও কথা হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রসেনজিতের কথায়, “আমি গত ৪০ বছর ধরে এই ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যুক্ত। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। ইন্ডাস্ট্রির সমস্যা, উন্নয়নের পরিকল্পনা, ব্যক্তিগত কিছু সুবিধা-অসুবিধা—এসব নিয়েই আজ কথা হয়েছে।”

সম্প্রতি পদ্মশ্রী সম্মান গ্রহণ করতে দিল্লি গিয়েছিলেন প্রসেনজিৎ। সেই সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিজের বাড়িতে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন বলে জানা যায়। অভিনেতার দাবি, সেই আমন্ত্রণ রক্ষা করতেই অমিত শাহ তাঁর বাড়িতে গিয়েছিলেন।

- Advertisement -

প্রসেনজিৎ আরও জানান, বাংলা সিনেমার উন্নয়ন ও প্রসারের স্বার্থে তিনি সবসময়ই সরকার বা সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিতে প্রস্তুত। তবে এই ধরনের সৌজন্য সাক্ষাৎকে রাজনৈতিক রং দেওয়া উচিত নয় বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

ফলে, অভিনেতার নিজের বক্তব্য অনুযায়ী, নবান্নের এই বৈঠক কিংবা অমিত শাহের সঙ্গে সাক্ষাতের সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বা দলবদলের বিষয় জড়িত নয়। যদিও রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে ঘিরে আলোচনা এখনও অব্যাহত রয়েছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর