নতুন বছর শুরু হয়েছে, আর এক নজর বাঙালির অত্যন্ত প্রিয় খাবার ও পানীয়ের তালিকায় অন্যতম মদও। বিশেষত, কলকাতা এবং পশ্চিমবঙ্গের শহরাঞ্চলে, বছরের প্রথম মাসে নানা উৎসবের আবহে মদ্যপান ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। শীতের এই সময় এবং নতুন বছরের শুরুতে, মদ্যপানের আনন্দ আরো বাড়ে, বিশেষত কোলকাতা, হাওড়া, শিলিগুড়ি, দুর্গাপুর এবং অন্যান্য শহরগুলিতে।
তবে, মদ্যপানকারীদের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, মদের দাম। বিশেষ করে যখন বাজারে মদ বিক্রি হয়, তখন দাম কত হতে পারে তা জানতে আগ্রহী হয় সবাই। জানুয়ারি ২০২৫-এর জন্য কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গে বিলিতি ও দেশি মদের দাম সম্পর্কে বিস্তারিত জানা উচিত।


জানুয়ারি ২০২৫: কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গে বিলিতি ও দেশি মদের দাম, সুরাপ্রেমীদের জন্যে বিশেষ প্রতিবেদন

যেহেতু জানুয়ারি মাসে বর্ষবরণ এবং বিভিন্ন শীতকালীন উৎসবগুলি হয়ে থাকে, সেহেতু মদ্যপানও ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। কিন্তু এসবের মধ্যে, দাম কত হতে পারে, এবং কোন ধরনের মদ কতটুকু দামে পাওয়া যাবে, তা গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে মদ বিক্রির পরিসংখ্যানের কথা বললে, শহরের বিভিন্ন এলাকায় মদের দাম কিছুটা পরিবর্তিত হয়েছে।
বিলিতি মদের দাম (Imported Liquor Prices)


বিলিতি মদ বা বিদেশি মদ পশ্চিমবঙ্গে একটি জনপ্রিয় পছন্দ। ভারতীয় বাজারে বিলিতি মদ বিক্রির জন্য অনেক ধরনের ভদকা, হুইস্কি, রাম, শ্যাম্পেন ইত্যাদি পাওয়া যায়। কলকাতার মধ্যে বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁ, পাব, নাইটক্লাবগুলোতে বিলিতি মদ পাওয়া যায়। এ ছাড়াও বাড়ির পার্টি, বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে আনন্দের সময়ও বিলিতি মদের কদর রয়েছে।

বিলিতি মদের দাম – কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গে
বাকর্দি ব্লাঙ্কা সুপিরিয়র হোয়াইট রাম:
১৮০ মিলি: ২৪০ টাকা
৩৭৫ মিলি: ৪৪০ টাকা
৭৫০ মিলি: ৮৪০ টাকা


স্মার্নফ ট্রিপল ডিস্টিলড ভদকা:
১৮০ মিলি: ২৪০ টাকা
৩৭৫ মিলি: ৪৩০ টাকা
৭৫০ মিলি: ৮২০ টাকা
ব্লেন্ডার্স প্রাইড সিলেক্ট হুইস্কি:
১৮০ মিলি: ২৭০ টাকা
৩৭৫ মিলি: ৪৯০ টাকা
৭৫০ মিলি: ৯২০ টাকা
জিন:
১৮০ মিলি: ২৮০ টাকা
৩৭৫ মিলি: ৫২০ টাকা
৭৫০ মিলি: ১০০০ টাকা
শ্যাম্পেন:
১৮০ মিলি: ৩৫০ টাকা
৩৭৫ মিলি: ৭০০ টাকা
৭৫০ মিলি: ১৫০০ টাকা

দেশি মদের দাম (Indian Liquor Prices)
দেশি মদ পশ্চিমবঙ্গে আরও জনপ্রিয়। ভারতে দেশে উৎপাদিত মদ থেকে শুরু করে, রাজ্যে উৎপাদিত দেশি মদের দাম সাধারণত সস্তা হয়। দেশি মদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো দেশি হুইস্কি, দেশি ভদকা, দেশি রাম এবং দেশি ব্র্যান্ডির দাম কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গে সাধারণত কম হলেও, ব্র্যান্ড এবং মানের ওপর নির্ভর করে দাম নির্ধারণ হয়।
দেশি মদের দাম – কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গে
দেশি হুইস্কি (মহালাভী):
১৮০ মিলি: ১৪০ টাকা
৩৭৫ মিলি: ২৮০ টাকা
৭৫০ মিলি: ৫৫০ টাকা
দেশি রাম (সানশাইন রাম):
১৮০ মিলি: ১২৫ টাকা
৩৭৫ মিলি: ২৪০ টাকা
৭৫০ মিলি: ৪৫০ টাকা
দেশি ভদকা (ভারতীয় ভদকা):
১৮০ মিলি: ১৩৫ টাকা
৩৭৫ মিলি: ২৬০ টাকা
৭৫০ মিলি: ৫১০ টাকা
দেশি ব্র্যান্ডি (মুঘল ব্র্যান্ডি):
১৮০ মিলি: ১৬০ টাকা
৩৭৫ মিলি: ৩২০ টাকা
৭৫০ মিলি: ৬৫০ টাকা
কলকাতায় মদের বাজার এবং বিক্রির পরিসংখ্যান
মদ বিক্রির ক্ষেত্রেও কলকাতার মধ্যে বিভিন্ন এলাকা রয়েছে, যেগুলোর মধ্যে আলিপুর এবং উত্তর কলকাতার মত জায়গা উল্লেখযোগ্য। বিশেষত, উৎসবের মরসুমে মদের বিক্রি হয় ব্যাপকভাবে, এবং এর মধ্যে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে রেকর্ড বিক্রি হয়েছে।
কলকাতার প্রধান এলাকাগুলিতে মদের বিক্রির হিসাব (2025)
*আলিপুর: ৪২ কোটি টাকার মদ বিক্রি হয়েছে।
*উত্তর কলকাতা: ৩৫ কোটি ৫ লক্ষ টাকার মদ বিক্রি হয়েছে।
*দক্ষিণ কলকাতা: ৩৫ কোটি ৫ লক্ষ টাকার মদ বিক্রি হয়েছে।
*বিধাননগর: ২৮ কোটি ৫ লক্ষ টাকার মদ বিক্রি হয়েছে।
এছাড়া, কলকাতায় সাধারণভাবে মদ বিক্রি হয় গড়ে ৩০০ কোটি টাকার। জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে, মদ বিক্রির পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে, অন্যান্য সময়ের তুলনায় এই কয়েক দিনে বিক্রি হয়েছে রেকর্ড পরিমাণ মদ।
মদের দাম নিয়ে সরকারের নতুন দৃষ্টি
মদের দাম সাধারণত কিছুটা পরিবর্তিত হয় রাজ্য সরকার এবং আবগারি দপ্তরের দিকনির্দেশনার উপর। ২০২৪ সালের বাজেটে মদের দাম বাড়ানোর কথা বলার পর, কলকাতার মানুষের মধ্যে বেশ কিছুটা অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল, তবে উৎসবের মধ্যে মদ্যপানকারীরা তাতে বিশেষ কোনো সমস্যা অনুভব করেননি।
মদের দাম কতটা প্রভাবিত করছে কলকাতার বাজার?
এটা অবশ্যই বলা যায় যে মদের দাম বাড়ানো হলেও, কলকাতার সুরাপ্রেমীরা এই দাম বাড়ানোকে মোটেই বাধা হিসেবে গ্রহণ করেননি। বরং, প্রতি বছর উৎসবের সময়ে মদের বিক্রি বৃদ্ধি পাওয়ার পরিসংখ্যান দেখে মনে হচ্ছে, শহরবাসীরা উৎসবে অংশগ্রহণের জন্য কিছুটা বেশি অর্থ খরচ করতে প্রস্তুত।
জানুয়ারি ২০২৫-এ কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গে মদের দাম কিছুটা বাড়ানো হয়েছে, তবে বিলিতি এবং দেশি মদের মধ্যে এখনও জনপ্রিয়তা বজায় রয়েছে। শহরের কিছু এলাকাতে মদের বিক্রি রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে, আর এটি মদ্যপানকারীদের জন্য সুখবর। তবে মদের দাম ক্রমাগত বাড়ানোর কারণে, সরকারের প্রতি মানুষকে আরও সচেতন হতে হবে এবং নিয়মিত দাম পরিবর্তনের ফলে ক্রেতাদের মাঝে আরও জিজ্ঞাসা তৈরি হতে পারে।







