ভোটের আগে লাল শিবিরে টালমাটাল! প্রতীক উর বিদ্রোহে নজরে সৃজন-দীপ্সিতা

প্রতীক উর রহমানের দলত্যাগের জল্পনায় অস্বস্তিতে বাম শিবির; নজরে সৃজন ও দীপ্সিতা। ভোটের আগে তরুণ নেতৃত্বে সম্ভাব্য ভাঙন কি বড় ধাক্কা দেবে আলিমুদ্দিনে?

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বিধানসভা ভোটের মুখে বাম রাজনীতির অন্দরমহলে অস্বস্তির ঘূর্ণিঝড়। তরুণ মুখ Pratik Ur Rahaman-এর দলত্যাগের জল্পনা ঘিরে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে চাপা উদ্বেগ—যদিও প্রকাশ্যে মুখে কুলুপ। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ‘প্রতীকী বিদ্রোহ’ যদি বাস্তবে রূপ নেয়, তবে তা কেবল একটি নামের প্রস্থান নয়, বরং প্রজন্ম-পরিবর্তনের এক বড় সঙ্কেতও হতে পারে।

দিন কয়েক আগে একটি চিঠি ঘিরে শুরু হয় জল্পনা। সূত্রের দাবি, ওই চিঠিতে নাকি প্রতীক উর দলের সব পদ থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন। যদিও চিঠির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই হয়নি এবং প্রতীক উর নিজেও প্রকাশ্যে কিছু জানাননি। বর্ষীয়ান নেতারা—যাঁদের মধ্যে রয়েছেন Mohammad SalimSujan Chakraborty—তাঁরাও নীরব।

এদিকে জোর গুঞ্জন, প্রতীক উর নাকি শাসকদল All India Trinamool Congress-এ যোগ দিতে পারেন। শোনা যাচ্ছে, শাসক শিবিরের এক সাংসদের সঙ্গে তাঁর একাধিক বৈঠক হয়েছে। কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে দু’জনকে একসঙ্গে দেখা গিয়েছে বলেও দাবি সূত্রের। সব ঠিকঠাক থাকলে চলতি সপ্তাহেই শিবির বদল সম্ভব—এমন কথাও ঘুরছে রাজনৈতিক মহলে। যদিও ঘাসফুল শিবির বা প্রতীক উর—কেউই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেননি।

প্রতীক উরের পদক্ষেপে নাকি নাড়া খেয়েছেন আরও দুই তরুণ নেতা—Srijan BhattacharyyaDipsita Dhar। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, তাঁরা পরিস্থিতি ‘জল মাপছেন’। প্রতীক উরের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করেই নাকি নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

অন্যদিকে, দলীয় অন্দরে প্রতীক উরকে ঘিরে অনিশ্চয়তা স্পষ্ট। সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া সিপিএমের রাজ্য কমিটির বৈঠকে তাঁকে আলাদা করে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। আলিমুদ্দিন নাকি বল ঠেলে দিয়েছে তরুণ নেতার কোর্টে—তিনি কী করবেন, সেই সিদ্ধান্ত তাঁরই।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, যদি সত্যিই প্রতীক উর, সৃজন ও দীপ্সিতারা শিবির বদল করেন, তা হলে বাম শিবিরে বড় ধাক্কা লাগবে—বিশেষ করে তরুণ নেতৃত্বের অভাব প্রকট হবে। তবে ভোটের অঙ্কে শাসকদলের সরাসরি বড় সুবিধা হবে কি না, তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। অনেকেরই ধারণা, মনস্তাত্ত্বিক ধাক্কা বড় হলেও ভোটবাক্সে প্রভাব সীমিত থাকতে পারে।

বিধানসভা ভোটের আগে তাই প্রশ্ন একটাই—এ কি কেবল গুঞ্জন, না কি বাম রাজনীতির ভিত নড়ে যাওয়ার পূর্বাভাস?

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত