রাজ্যের নির্বাচনী আবহ গরম হওয়ার আগেই রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন। একসময় যাঁরা ভোটের ময়দানে মুখোমুখি প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন, এবার একই মঞ্চে হাত মিলিয়ে সহযোদ্ধা হলেন তাঁরা। ডায়মন্ড হারবারে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে দলীয় পতাকা তুলে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন সিপিএমের প্রাক্তন নেতা ও ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনের প্রার্থী প্রতীক উর রহমান।
মাত্র দু’বছর আগে এই ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্র থেকেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সিপিএম প্রার্থী হিসেবে লড়েছিলেন প্রতীক। সেই রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবিতে দেখা গেল তাঁকে। আমতলায় অভিষেকের কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘ইনকিলাব’ স্লোগান ছেড়ে তাঁর কণ্ঠে শোনা গেল ‘জয় বাংলা’।


দলবদলের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রতীক উর বলেন, “আমার নীতি-নৈতিকতা বলে ফ্যাসিস্ট শক্তিকে আটকাতে হবে। বিজেপিকে রুখতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” তাঁর দাবি, বিজেপির বিরুদ্ধে কার্যকর লড়াই করতে গেলে তৃণমূলই বর্তমানে সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম।
সম্প্রতি দলের কার্যকলাপ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে সিপিএমের প্রাথমিক সদস্যপদসহ জেলা ও রাজ্য কমিটির সব পদ থেকে ইস্তফা দেন প্রতীক। সেই সময় থেকেই তাঁর তৃণমূলে যোগদানের জল্পনা শুরু হয়েছিল। শনিবার সেই জল্পনাই বাস্তবে পরিণত হয়।
‘ডিল’ করে দলবদলের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে প্রতীক বলেন, “আমার একটাই ডিল—বিজেপিকে আটকানো।” একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিতপূর্ণভাবে প্রাক্তন দলকেও আক্রমণ করেন। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক সংঘর্ষে আক্রান্ত হওয়ার সময় দল তাঁকে যথেষ্ট সমর্থন দেয়নি।


নীতিগত অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিজেপিই তাঁর কাছে প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। সিপিএমের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলে বলেন, দলের বক্তব্য বারবার বদলেছে, যা তাঁর কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি।
অন্যদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিকদের জানান, প্রতীক উর তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে জানিয়েছেন যে তিনি কোনও নির্বাচনী টিকিট চান না; বরং সংগঠনের কাজে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকতে চান।
ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের আগে এই দলবদল দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।







