ধর্মীয় উগ্রতার অভিযোগে ফের বিতর্কে জড়ালেন ভোপালের প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ প্রজ্ঞা সিং ঠাকুর (Pragya Singh Thakur)। সম্প্রতি একটি ধর্মীয় সভায় তাঁর বক্তব্য ঘিরে উত্তাল হয়েছে রাজ্য রাজনীতি। প্রজ্ঞা ঠাকুর বলেন, “বাড়ির মেয়েরা যেন অহিন্দুদের বাড়িতে না যায়। যদি না শোনে, তাহলে পা ভেঙে দিন।” তাঁর এই মন্তব্যের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে প্রবল সমালোচনা।
জ্যোতিষ্মতী, সংস্কারবাদী এবং উগ্র হিন্দুত্ববাদী নেত্রী হিসেবেই পরিচিত প্রজ্ঞা। সময় সময় তাঁর মন্তব্যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে আগেও। এইবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ভোপালের এক ধর্মীয় সভায় উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ করে প্রজ্ঞা বলেন, “মন এতটাই শক্ত করতে হবে যে, যদি আপনার মেয়ে অহিন্দুর বাড়ি যায়, তবে কোনও অবস্থাতেই তা মেনে নেওয়া যাবে না। প্রয়োজন হলে মারধর করুন, কারণ বাবা-মা সন্তানদের ভালর জন্যই কঠোর হন।”
প্রজ্ঞা ঠাকুরের এই মন্তব্যের পর থেকেই কংগ্রেস শিবির তীব্র আক্রমণে নামে। মধ্যপ্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র ভূপেন্দ্র গুপ্ত বলেন, “এ ধরনের মন্তব্য সমাজে ঘৃণা ছড়ানোর উদ্দেশ্যে করা হয়। বিজেপি নেতারা বারবার সাম্প্রদায়িক বিভাজন ঘটাচ্ছেন।” তাঁর দাবি, “মধ্যপ্রদেশে ধর্মান্তরকরণের মাত্র সাতটি ঘটনা পাওয়া গিয়েছে। অথচ বিজেপি নেতারা এই অজুহাতেই উত্তেজনা সৃষ্টি করতে চাইছেন।”
প্রজ্ঞা ঠাকুরের বক্তব্য ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভাজন দেখা দিয়েছে। একাংশ প্রজ্ঞার সমর্থনে বলছেন, তিনি হিন্দু মূল্যবোধ রক্ষার কথা বলছেন মাত্র। অন্যদিকে, বিরোধীদের মতে, একজন প্রাক্তন সাংসদের মুখে এমন হিংসাত্মক পরামর্শ অত্যন্ত দুঃখজনক এবং আইনবিরুদ্ধ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রজ্ঞা ঠাকুরের এই বক্তব্য আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ বিজেপির একাংশই চান না, এমন উগ্র মন্তব্যের জন্য দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হোক।
প্রজ্ঞা ঠাকুর এর আগেও নানা বিতর্কে জড়িয়েছেন। ২০১৯ সালে তিনি মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকারী নাথুরাম গডসেকে “দেশভক্ত” বলে মন্তব্য করেছিলেন, যা নিয়ে সারা দেশে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এই ঘটনাও সেই পুরনো বিতর্কের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে।
ধর্মীয় সহিষ্ণুতার প্রশ্নে ফের রাজনীতির অগ্নিকুণ্ডে মধ্যপ্রদেশ। কংগ্রেস যেখানে বিজেপির বিরুদ্ধে ঘৃণার রাজনীতি চালানোর অভিযোগ তুলেছে, সেখানে বিজেপি বলছে, প্রজ্ঞার মন্তব্যকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করছে বিরোধীরা। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বিতর্কে সুবিধা পেতে পারে বিরোধী দলগুলি।



