একে একে নিভছে দেউটি… আক্ষরিক অর্থেই আজ প্রদীপ নিভেছে নজরবন্দির।

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

রিয়া পাত্রঃ একে একে নিভছে দেউটি… কঠিন সময়, কঠিন অসুখ আর অজানা কালো ভয় নিয়ে দিন পেরোচ্ছে আমাদের সকলের। ভয়াবহ পরিস্থিতিতে একে একে হাত ছেড়ে যাচ্ছে প্রিয় বন্ধুর, মাথার ওপর থেকে সরে যাচ্ছে এতবছরের মেলে থাকা ছাতা গুলো। কড়া নিয়মকানুনে শেষ বার ছুঁয়ে দেখা হয়ে উঠছে না প্রিয় মুখেদের। সবকিছু নিয়ে বুক ভারী করে আমরা আবার পরের খবরের দিকে এগোচ্ছি, যেমনটা নিয়ম। যেমনটা হয়।

লম্বা হচ্ছে তালিকা। হিসেব রাখা কষ্টদায়ক। রোজ মৃত্যুর খবর শুনে শুনে সহজ হওয়ার চেষ্টা করি আমরা, চেষ্টা করি দিন গুজরানের। তবুও…এই মহামারী, এই কঠিন সময় আমাদের থামিয়ে দেয় কিছু প্রিয় বিয়োগে। আজ আমাদের থামিয়ে থমকে গেলেন প্রদীপ হাজরা, আমাদের প্রদীপ দা। এই নজরবন্দি, যে পরিমাণ পাঠক আপনারা রোজ পড়েন, সঙ্গে থাকেন, আমরা যাঁরা রোজ খবর পৌঁছে দিই আপনাদের কাছে, এই সবকিছুর মেরুদণ্ড ছিলেন প্রদীপ হাজরা। পোর্টালের সম্পাদক অর্ক দার সঙ্গে সামান্য আলোচনায় তিনি সানন্দে রাজি হয়েছিলেন ওয়েব ডেভলমেন্টের দায়িত্ব নিতে।

শুরুতে কোন অফিস ছিলনা প্রায় ৩ বছর, তারপর অফিস। সেই অফিসে আসা, আড্ডা… আমদের পরিবারটা যেমন আরকি! হটাৎ ওয়েবসাইট বসে গেল, ট্রাফিক লোড। আর্কাইভ উড়ে গেল… কম্পিউটার ফরম্যাট করতে হবে। ফটোশপ, এডিটিং সফটওয়ার লাগবে… সবকিছুর একটাই সমাধান প্রদীপ দা। যারা ভাবছেন অর্থের বিনিময়ে তাঁরা ভুল করছেন। আমাদের এই পরিবার, নজরবন্দি পরিবারের সাথে আমরা যারা যুক্ত তাঁরা শুধু অর্থের বা টাকা পয়সার জন্যে কাজ করিনা। নিজেদের পরিবারের বাইরে এটা আর একটা পরিবার। অফিস ঝাঁটানো থেকে রান্না করা, চা করা। রাত জেগে হৈ হৈ করা… সবটাই মন থেকে। শুধু টাকার বিনিময়ে এসব হয়না।

নিচের লিঙ্কে যিনি গিটার বাজাচ্ছেন, তিনিই আমাদের প্রদীপ দা। 

আমি এই পরিবারে নতুন, বলাভাল সবথেকে নবীন সদস্যা। মাত্র ৮ মাস হল আমার পথ চলা। তারমধ্যেই বুঝেছি আমাদের এই পরিবারটা কত আত্মিক। প্রদীপদা অফিসে আসত, আড্ডা দিল। আর কিভাবে কি কাজ করা যায় সেই আলোচনা করত। শূন্য বা বলা ভাল মাইনাস থেকে শুরু হওয়া নজরবন্দির আজ অফিস হয়েছে, এর থেকে আনন্দের আর কিছু ছিলনা খেলা পাগল মোহনবাগানি প্রদীপদার। নজরবন্দির সাথে একেবারে শুরু থেকে একসঙ্গে পথ চলা। বলাচলে নজরবন্দির ভাবনা অর্কদা ভেবেছিল আর তাঁকে বাস্তব রুপ দিয়েছিল প্রদীপ দা। শুনেছি মাত্র ৬ হাজার টাকায় তৈরি হয়েছিল নজরবন্দির এই ওয়েবসাইট। মাত্র ৬ হাজার টাকার মধ্যেই হোস্টিং, ডোমেইন, ডেভেলপমেন্ট চার্য!

নজরবন্দির সঙ্গে আরও একাধিক পোর্টাল, গ্রুপ এবং পেজের ডেভলপার ছিলেন প্রদীপ দা। পয়সা নয় নিজের আনন্দে, নিজের মনের শান্তির জন্য কাজ করে গেছেন নিঃস্বার্থ ভাবে। কট্টর সমর্থক ছিলেন মোহনবাগানের। যাকে বলে একেবারে ডাই হার্ট ফ্যান। এই সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে যখন আমরা ট্রেনে বাসে ব্যস্ততায় টিভি বয়ে নিয়ে যেতে পারিনা পকেটে, খবর দেখি হাতের মুঠোর ফোন খুলে একাধিক পেজ,গ্রুপ, পোর্টাল, ডিজিট্যাল চ্যানেলে, তার অনেকগুলি একপ্রকার স্থপতি বলা যায় প্রদীপ হাজরাকে। বয়স এখনো হাফ সেঞ্চুরির কোঠা পেরোয়নি।

তবে অনিয়ম, রাত জেগে কাজ সব মিলিয়ে কোথাও গিয়ে ছন্দপতন ঘটছিল, কাজে মেতে থেকে যা হয়তো টেরও পাননি। হৃদযন্ত্রে গোপন সমস্যা ছিলই, কাউকে জানান নি। সেটাই কাল হল। গতকাল রাতে আচমকা শুরু হয় অসম্ভব মাথা-যন্ত্রণা। ঠিক কারণ ঠাওর করতে না পেরে ঘরে থাকা যন্ত্রণার ওষুধ খেয়ে ঘুমোতে যান, সকালে উঠে কাজে বসবেন বলে… সেই ঘুম থেকে ওঠেন নি তিনি আর। তিনি বেচেঁ থাকবেন নজরবন্দি সহ অসংখ্য পোর্টাল পেজের মধ্যে দিয়ে। বেঁচে থাকবেন মোহনবাগানের গানের মধ্যে দিয়ে। একে একে নিভছে দেউটি… আক্ষরিক অর্থেই আজ প্রদীপ নিভেছে নজরবন্দির।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর