নজরবন্দি ব্যুরো: বিদ্যুৎ চক্রবর্তী বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদের মেয়াদ শেষ হতেই ফের পৌষমেলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। এনিয়ে গতমাসে বৈঠকে বসে শান্তিনিকেতন ট্রাস্ট। অবশেষে সোমবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হল। এবারেও হচ্ছে না পৌষ মেলা। বেশ কিছু কারণ উল্লেখ করেছে কর্তৃপক্ষ।
শান্তিনিকেতন ট্রাস্টের সম্পাদক অনিল কোনার জানিয়েছেন, খুব অল্প সময়ের মধ্যে সবটা গুছিয়ে ওঠা যায়নি বলেই মেলা করা যাচ্ছে না। মূলত তিন বছর পর নতুন করে পৌষ মেলার উদ্যোগ নেওয়া হলেও হাতে খুবই কম সময় থাকার কারণে শেষপর্যন্ত পৌষমেলার আয়োজন সম্ভব হচ্ছে না। সোমবার (৪ ডিসেম্বর) প্রায় ৩ ঘণ্টার বৈঠক হয়েছে বলে খবর। বৈঠকে সকলেই উপস্থিত ছিলেন। জানা যায়, নভেম্বরের বৈঠকের পর সফ্টওয়ার ডেভেলপ করতে আইআইটিকে লেখেন উপাচার্য। সেটাও আসেনি। ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইবুনালও নির্দিষ্ট কিছু জানায়নি।

আরও জানা যায়, তিন বছর মেলা হয়নি। পরিকাঠামোর অভাব, পাশাপাশি হাতে সময় খুব কম। জল নিয়ে সমস্যা হচ্ছে। এত অল্প সময়ের মধ্যে সবটা সামলে মেলা করা সম্ভব না। অনিল কোনারের দাবি, “এ মেলা ছোট আকারে করা যায় না। কে অর্থ দেবে? বিশ্বভারতী ও ট্রাস্ট সহযোগিতা করে এই মেলা করে। উপাচার্য দায়িত্ব নিয়েছেন এক মাসও হয়নি। ওনাকে তো সময় দিতেই হতো।”

শান্তিনিকেতন ট্রাস্টের এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশ্বভারতীর উপাচার্য হিসেবে বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর মেয়াদ শেষ হতেই ঐতিহ্যবাহী পৌষমেলা নিয়ে আশার আলো দেখেছিলেন দেশ-বিদেশ থেকে আসা পর্যটক-সহ বোলপুর শান্তিনিকেতনের বাসিন্দারা। কিন্তু সোমবারের বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসতেই সব আশা ব্যর্থ হল সকলের।
বিদ্যুৎ-পরবর্তী কালেও পৌষমেলা থেকে ‘বঞ্চিত’ বিশ্বভারতী! সিদ্ধান্ত জানাল শান্তিনিকেতন ট্রাস্ট

উল্লেখ্য, করোনা কালে প্রথমবারের জন্য বন্ধ হয়েছিল শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্যবাহী পৌষ মেলা। সে সময় উপাচার্য পদে ছিলেন বিদ্যুৎ চক্রবর্তী। সম্প্রতি বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর মেয়াদ শেষ হয়েছে। বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, পৌষ মেলা নিয়ে তাঁর আগ্রহ খুবই কম। বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ বুকিং-এর জন্য একটি সফটওয়্যারকে নতুন করে ডেভেলপ করতে চেয়েছিল। দায়িত্বে ছিল খড়গপুর আইআইটি। ২০১৯ সালে খড়্গপুর আইআইটি যে সফটওয়ার তৈরি করে দিয়েছিল তার মেয়াদ তিন বছর ছিল। সেটিও এখনও হয়নি।



