নজরবন্দি ব্যুরোঃ ছেলে রয়েছে জেলে। তাকে মুক্ত করতে থানায় পুলিশ অফিসারের দ্বারস্থ হলেন মহিলা। মুক্তির আশ্বাসও দিয়েছিলেন অফিসার। কিন্তু শর্ত হিসেবে তাঁকে ম্যাসাজ করতে হল ওই আধিকারিককে! ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসতেই ওই পুলিশ আধিকারিককে তড়িঘড়ি সাসেপন্ড করা হয়েছে। ঘটনাটি বিহারের সহরসা জেলার নাওহাট্টা থানার।
আরও পড়ুনঃ দরকার পড়লে সিবিআই তদন্তের দাবি করুন, ময়নাগুড়ির নির্যাতিতার পরিবারকে পরামর্শ শুভেন্দুর
এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, ঘটনাটি বিহারের সহর্সা জেলার। একটি ৩ সেকেন্ডের ভিডিয়ো নেটমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে এক পুলিশ আধিকারিক অর্ধনগ্ন হয়ে বসে আছেন। এক মহিলা তাঁর গা টিপছেন। এবং অন্য এক মহিলা উল্টো দিকে একটি চেয়ারে বসে আছেন। সাব-ইনস্পেক্টর শশিভূষণ খালি গায়ে বসে মহিলার ছেলের জামিনের জন্য ফোনে কথা বলে যাচ্ছিলেন আইনজীবীর সঙ্গে।

ভিডিওয় কী কথা বলতে শোনা গিয়েছে ওই অফিসারকে? তাঁকে বলত শোনা যায়, ‘এই মহিলা গরিব, অভাবী… কত টাকা পাঠাব আমি? আমরা একটা খামে করে সেই টাকা পাঠিয়ে দেব। দু’জন মহিলা তাঁদের আধার কার্ড নিয়ে আপনার কাছে যাবেন। আমি সোমবার টাকা পাঠাব মোবাইলে দেওয়া ঠিকানাটায়। পাপ্পু বাবু, আমি আপনাকে অনুরোধ করছি। ইতিমধ্যেই আমি ১০ হাজার টাকা খরচ করব।’
Seeking bail for her son, woman made to #massage cop at police station in #Bihar. The officer-in-charge of a police post in the #Saharsa district of Bihar was suspended on the alleged charge of forcing a woman for his body massage.
Read 🔗 https://t.co/EkNLgn5WM3 pic.twitter.com/yoNAnPb0Hl— NewsPoint (@NP_App) April 29, 2022
তিনি যখন ওই কথা বলছেন, তখন আরেক মহিলাকে দেখা যায় পাশে বসে থাকতে। মনে করা হচ্ছে সম্ভবত ফোনে যে দুই মহিলার কথা বলছিলেন অফিসার, তাঁরা এই দুই মহিলাই। শশীভূষণ আইনজীবীকে টাকা দিয়ে ওই ছেলেটির জামিনের ব্যাপারে বন্দোবস্ত করতেই বলছিলেন। স্বাভাবিক ভাবেই ভিডিওটি ভাইরাল হতেই বিতর্ক তুঙ্গে ওঠে। এরপরই অভিযুক্ত অফিসারকে সাসপেন্ড করেছেন সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার।
শশিভূষণকে আরও বলতে শোনা যায়, মহিলা গরিব, ফলে ছেলের জামিনের জন্য টাকা দেওয়ার ক্ষমতা তাঁর নেই। তাই তিনিই দশ হাজার টাকা দিয়ে দেবেন। ফোনে যখন তিনি কথা বলছিলেন, তখন ওই মহিলাকে দিয়েই তেল মালিশ করিয়ে গা টেপাচ্ছিলেন তিনি। ভিডিয়োটি প্রকাশ্যে আসতেই বিতর্ক শুরু হয়ে গিয়েছে। যদিও আনন্দবাজার অনলাইন ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি।
জামিন চাই ছেলের, থানার মধ্যেই মাকে দিয়ে গা টেপাল অর্ধনগ্ন পুলিশ অফিসার

পুলিশের উপর মহলে সেই ভিডিয়ো পৌঁছতে শশিভূষণকে সাসপেন্ড করা হয়। সহরসার পুলিশ সুপার লিপিকা সিংহ জানিয়েছেন, ভিডিয়োটি নেটমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পরই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসডিপিও পদমর্যাদার আধিকারিক এই ঘটনার তদন্ত করবেন।



