দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পশ্চিমবঙ্গে শুরু হল কেন্দ্রের প্রধানমন্ত্রী সূর্যঘর যোজনা (PM Surya Ghar Yojana)। মঙ্গলবার নবান্ন (Nabanna) থেকে প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) জানান, প্রথম ধাপে রাজ্যের ১,৮০০টি পরিবার এই প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছে। তাঁর দাবি, আগামী দিনে আরও বেশি সংখ্যক পরিবারকে এই সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের আওতায় আনা হবে। একইসঙ্গে পূর্ববর্তী প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রকল্প বাস্তবায়নে অসহযোগিতার অভিযোগও তোলেন তিনি।
কেন্দ্র সরকার ২০২৪ সালে ‘প্রধানমন্ত্রী সূর্যঘর যোজনা’ চালু করেছিল। প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য, গৃহস্থদের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিলের চাপ কমানো এবং পরিচ্ছন্ন শক্তির ব্যবহার বাড়ানো। এই প্রকল্পে নির্দিষ্ট ক্ষমতার সোলার প্যানেল বসালে প্রতি মাসে ৩০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুতের সুবিধা পাওয়ার পাশাপাশি কেন্দ্রের নির্ধারিত ভর্তুকিও দেওয়া হয়।
মঙ্গলবারের অনুষ্ঠানে শুভেন্দু অধিকারী জানান, প্রথম পর্যায়ে নির্বাচিত উপভোক্তাদের বাড়িতে ইতিমধ্যেই সোলার প্যানেল বসানো হয়েছে এবং ভর্তুকির অর্থ সরাসরি তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে গিয়েছে। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের কাছে প্রকল্পের সুবিধা দ্রুত পৌঁছে দেওয়াই সরকারের অগ্রাধিকার।
অনুষ্ঠান চলাকালীন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কয়েকজন উপভোক্তার সঙ্গেও কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, আগে আবেদন করেও প্রকল্পের সুবিধা পাননি। পরে নতুন করে আবেদন করার পর নির্ধারিত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভর্তুকির অর্থ তাঁদের অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে বলে তাঁরা জানান। তবে এই দাবিগুলি সংশ্লিষ্ট উপভোক্তাদের বক্তব্য।
সরকারের ঘোষণায় জানানো হয়েছে, প্রকল্পের আওতায় সোলার প্যানেল স্থাপনের জন্য ক্ষমতা অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। ১ কিলোওয়াট ক্ষমতার জন্য ৩০ হাজার টাকা, ২ কিলোওয়াটের জন্য ৬০ হাজার টাকা এবং ৩ কিলোওয়াট পর্যন্ত স্থাপনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার টাকা ভর্তুকি মিলবে। এই অর্থ সরাসরি উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে।
উল্লেখ্য, কয়েক সপ্তাহ আগে নন্দীগ্রামের এক সরকারি কর্মসূচি থেকে শুভেন্দু অধিকারী সাধারণ মানুষকে এই প্রকল্পে আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। এরপর অনলাইন ও অফলাইন—দুই মাধ্যমেই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়। রাজ্য সরকারের দাবি, প্রথম ধাপ সফল হওয়ার পর আগামী মাসগুলিতে আরও বহু পরিবারকে এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যাতে সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে।



