শিল্প-রাজনীতির স্মৃতিবহ ভূখণ্ডে আবার ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী। টাটা ন্যানো প্রকল্প সিঙ্গুর ছেড়ে যাওয়ার ১৮ বছর পরে, ১৮ জানুয়ারি শিল্পহারা সিঙ্গুরেই জনসভা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সরকারি সূত্রের খবর, ওই দিন সিঙ্গুর থেকেই হুগলি–পুরুলিয়া লোকাল ট্রেনের উদ্বোধন করবেন তিনি। সরকারি অনুষ্ঠান শেষ করেই সিঙ্গুরে জনসভায় যোগ দেওয়ার কথা প্রধানমন্ত্রীর—আর সেই ঘোষণা ঘিরেই নতুন করে তুঙ্গে রাজনৈতিক আলোচনা।
ভোট আসে, ভোট যায়—কিন্তু রাজ্যের শিল্পের ছবি বদলায় না—এই অভিযোগ দীর্ঘদিনের। একের পর এক কলকারখানা বন্ধ, বন্ধ তালায় জং—এই বয়ানই তুলে ধরে বিরোধীরা। কোভিড পর্বের পর তৃতীয়বার সরকার গঠনের সময় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শিল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছিলেন। সেই লক্ষ্যেই নিয়মিত বিশ্ব বাংলা বাণিজ্য সম্মেলন হয়েছে, কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতিও এসেছে। কিন্তু বিরোধীদের দাবি, প্রতিটি সম্মেলনের পর একই প্রশ্ন ফিরে এসেছে—আগের প্রতিশ্রুতিগুলির কী হল? তাঁদের অভিযোগ, কোনও সরকারি প্রকল্পই টাটা বিদায়ের ক্ষত পূরণ করতে পারেনি। বরং ভোটের মুখে এই প্রশ্নই বারবার বড় হয়ে উঠেছে।
এবার সেই শিল্প-রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু সিঙ্গুরেই প্রধানমন্ত্রী মোদির সভা—সময়টা আরও তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের দিকে রাজ্য এগোচ্ছে। এসআইআর সংক্রান্ত বিতর্ক, ধর্মীয় মেরুকরণ—সবকিছুর পাশাপাশি এই জনসভাকে অনেকেই ভোটের আগে বড় রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন। কারণ, রাজনৈতিক মহলের মতে, সিঙ্গুর থেকেই এক সময় রাজ্যের ক্ষমতার সমীকরণ বদলাতে শুরু হয়েছিল।
স্মৃতিতে এখনও টাটার সরে যাওয়া। এক টাকার এসএমএস করে সিঙ্গুর থেকে গুজরাতের সানন্দে Tata Nano প্রকল্প নিয়ে যাওয়াই ছিল সেই সময়ের ‘টার্নিং পয়েন্ট’। ন্যানোকে সানন্দে নিয়ে যেতে গিয়ে গুজরাতে বিপুল জমি, ছাড় ও ঋণ দিয়েছিল মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার—এমনটাই বিরোধীদের দাবি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সেই ঘটনাই তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের পতনের প্রক্রিয়ায় বড় ভূমিকা নিয়েছিল।
এবার ফের বাংলায় প্রধানমন্ত্রী। ১৭ জানুয়ারি মালদার ইংরেজবাজারে সভা, পরদিন ১৮ জানুয়ারি হুগলির সিঙ্গুরে জনসভা। প্রশ্ন উঠছে—১৮ বছর পর সিঙ্গুরে মোদির এই প্রত্যাবর্তন কি ২০২৬-এর ভোটের আগে আরেকটি টার্নিং পয়েন্টের ইঙ্গিত? টাটা ন্যানো অধ্যায়ের পর সিঙ্গুর থেকে সানন্দ—সেই রাজনৈতিক বৃত্ত কি আবার সিঙ্গুরেই এসে সম্পূর্ণ হতে চলেছে? উত্তর দেবে সময়ই।



