নজরবন্দি ব্যুরোঃ ‘যদি একটা পোকা ধানে জন্মায়, তাকে সমূলে বিনাশ না করলে কিন্তু ওই পোকাটা থেকেই সারা ধানে পোকা লেগে যাবে। সুতরাং, আমাকে পোকাটা আগেই নির্মূল করতে হবে’, দলের কর্মীদের দুর্নীতিমুক্ত রাখতে সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে পোকাটি যে কে তা উল্লেখ করেননি মমতা। কিন্তু শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে পার্থ চট্টোপাধ্যায় কে ছেঁটে ফেলে হাত সাফ করতে চেয়েছিল তৃণমুল। তাই পোকা লাগা ধানের মধ্যে যে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ রয়েছেন তা বুঝতে অসুবিধা নেই কারও। আর এই প্রসঙ্গ নিয়ে আদালত চত্বরে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিতেই, একেবারে ‘স্পিকটি নট’ পার্থ চট্টোপাধ্যায়।
আরও পড়ুনঃএবার ডিম-সোয়াবিন অতীত! মিড-ডে মিলে পড়ুয়াদের পাতে পড়বে মাংস আর ফল
বৃহস্পতিবার আলিপুরে সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতে হাজিরা দিতে আসেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী। তখনই তাঁকে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা ‘ধানের পোকা’ নিয়ে প্রশ্ন করেন। এর আগে আদালতে ঢোকার মুখে দলের বিষয়ে নানা ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করলেও বৃহস্পতিবার তিনি কোনও কথা বলেননি। পুলিশি নিরাপত্তার ঘেরোটোপে ম্রিয়মান ভাবে আদালতকক্ষে প্রবেশ করেন তিনি। তবে কি এতদিনে টের পেয়েছেন, তিনি দলে থাকলেও, দল তাঁকে ছেঁটে ফেলেছে? এমনকি দলের জন্য তিনিই এখন পোকার মতোই অনিষ্টকারী?

মমতার ‘ধানে পোকা’ সংক্রান্ত মন্তব্য একদা দলীয় সতীর্থ পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে কেন্দ্র করেই তা বুঝতে বিশেষ বেগ পেতে হয় না। কিন্তু সম্প্রতি দুর্নীতির অভিযোগে শুধু পার্থই নন, গ্রেফতারির তালিকায় আছেন অনুব্রত মণ্ডল, মানিক ভট্টাচার্যের মতো নেতা, বিধায়কও। স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে, ‘‘কই, মানিক বা অনুব্রতকে নিয়ে তো কঠোর অবস্থান নেয়নি দল? তা হলে কি পার্থকে বলি দিয়ে বাকিদের ফাঁড়া কাটাতে চাইছে ঘাস্ফুল শিবির।
মমতার মুখে ধানে পোকা শুনে মুষড়ে পড়লেন পার্থ, আদালতে একেবারে স্পিকটি নট তৃণমূলের প্রাক্তন মহাসচিব

পার্থের গ্রেফতারির কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁকে দলের সব পদ থেকে অপসারিত করা হয়, অথচ অনুব্রতর জন্য উদারহস্ত মুখ্যমন্ত্রী বারবার এনেছেন কেন্দ্রীয় ষড়যন্ত্রের অভিযোগ। দুর্নীতির বোঝা মাথায় নিয়েও অনুব্রত এখন বীরভূমের জেলা সভাপতি? তবে কি দলনেত্রীর সুনজরে থাকছেন যারা তাঁদেরকে মাফ করে দিচ্ছে শাসকদল এই নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। তাই একাই ভিলেন হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন পার্থ। মুখ থেকে শোনা গেল না কোন বার্তা।



