বুধবার ব্যাঙ্কশাল আদালতে সশরীরে হাজিরা দিতে না আসায় কঠোর সতর্কবার্তা পেলেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিল, Partha Chatterjee bail warning কেবল সতর্কতা নয়—হাজিরা না দিলে বাতিল হয়ে যেতে পারে জামিনও। একই মন্তব্য শোনা যায় শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রেও। বিচারকের কড়া ভাষায় আদালতের পরিবেশ আরও গম্ভীর হয়ে ওঠে।
“পচা শামুকে যেন পা না কাটে। যাঁরা উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন, তাঁদের সশরীরে হাজিরা দিতেই হবে,” — বিচারকের এই মন্তব্যেই স্পষ্ট হয়ে যায় আদালত ঘটনা কতটা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। হাজিরা না দিলেই যে বিপদ বাড়তে পারে, সেই বার্তাই পরিষ্কার।


পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জামিন বাতিল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি, তীব্র ভর্ৎসনা বিচারকের
১১ নভেম্বর শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় দীর্ঘদিন জেলবন্দি থাকার পর জামিন পেয়েছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। শারীরিক অসুস্থতার কারণে একাধিক মাস ধরে বাইপাসের ধারের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। সেখান থেকে বাড়ি ফিরলেও মামলার নিয়ম মেনে আদালতে হাজিরার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু টানা দু’বার অনুপস্থিতি Partha Chatterjee bail warning পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করেছে।
পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের পাসপোর্ট এদিন আদালতে সারেন্ডার করেন তাঁর আইনজীবী। ফলে তদন্তের স্বার্থে তাঁর বিদেশযাত্রায় এখনই বাধা থাকল। তবে আদালতে হাজিরা না দেওয়ার বিষয়ে তাঁর আইনজীবীরা অসুস্থতার কারণ দেখান, যদিও বিচারক জানান, আদালতের নির্দেশ সবার ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য।
এদিকে, একই মামলার আরেক অভিযুক্ত চন্দ্রনাথ সিনহার বিরুদ্ধেও চার্জ গঠনের কথা ছিল। কিন্তু ইডি আদালতে জানায়, তাঁরা এখনও প্রস্তুত নন। এ প্রসঙ্গে বিচারক প্রশ্ন তোলেন, এত দিনেও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট পড়া শেষ হয়নি কেন। সিনহার আইনজীবীরা জানান, জানুয়ারি পর্যন্ত সময় লাগবে নথি পর্যালোচনায়। ফলে শুনানি স্থগিত হয়ে গেল। পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে ৬ সেপ্টেম্বর।


শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইতিমধ্যেই উচ্চ আদালতের নানা নির্দেশে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। তদন্ত চলতে থাকায় প্রত্যেক অভিযুক্তের ওপর নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে আদালতের দেওয়া Partha Chatterjee bail warning আগামী দিনে মামলার বিচার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিতে পারে।
বিচারকের কড়া বার্তা স্পষ্ট—জামিন মানে স্বাধীনতা নয়, আদালতের নির্দেশ মেনে চলার বাধ্যবাধকতাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আর কোনও ব্যত্যয় ঘটলে জামিন বাতিলের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না আইনজীবী মহল।








