পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জামিন, ছলছল চোখে হাসপাতাল থেকে বাড়ির পথে প্রাক্তন মন্ত্রী

দীর্ঘ ২৮ মাস পর শর্তাধীন জামিনে মুক্তি। হাসপাতাল চত্বরে জমা অনুগামীদের স্লোগানে আবেগে কেঁদে ফেললেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

মঙ্গলবার দুপুরে বহু প্রতীক্ষিত সেই মুহূর্ত এল। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জামিন কার্যকর হওয়ার পর বাইপাসের ধারের হাসপাতালে থেকে হুইলচেয়ারে বসে বাইরে এলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী। মুখে নীল রঙের মাস্ক, গায়ে সাদা ফুলছাপ পাঞ্জাবি। হাসপাতালের দরজায় পা পড়তেই গর্জে উঠল স্লোগান— “পার্থদা জিন্দাবাদ”। কয়েক সেকেন্ড নিস্তব্ধ ছিলেন তিনি। তারপর আবেগে ভিজল চোখ। অনুগামীদের দিকে হাতজোড় করে নমস্কার জানালেন, কিন্তু কোনও মন্তব্য করলেন না। তাঁর কথায়, “কিছু বলব না।”

পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জামিন হয়ে যাওয়ার পর থেকেই নাকতলার বাড়ির আশপাশে জনতার ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। রাজনৈতিক অঙ্গনের বহু জল্পনা আর চাপানউতোরের মধ্যে ২৮ মাস পর মুক্তির দৃশ্য আরও নাটকীয় করে তুলল পরিস্থিতি। একসময়ে তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতা ও শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন পার্থ। কিন্তু এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর রাজ্য রাজনীতিতে পাল্টে যায় সমীকরণ।

হাসপাতাল চত্বরে যে আবেগের বিস্ফোরণ দেখা গেল, তাতে স্পষ্ট—কিছু অনুগামী এখনো তাঁকে নিজেদের নেতা হিসেবেই দেখেন। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জামিন নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই নানা মতভেদ, প্রতিক্রিয়া, বিতর্কের স্রোত। তবে এদিন তিনি সেসব প্রশ্নকে এড়িয়ে নিলেন নীরবতায়।

গাড়ি আগেই প্রস্তুত ছিল। চালকের পাশের আসনে বসেই বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন তিনি। গাড়ির পিছনে দীর্ঘ কনভয় অনুগামীদের। প্রত্যেকেই মোবাইলে ধরছিলেন সেই মুহূর্ত। কেউ চিৎকার করে বলছিলেন— “দাদা বাড়ি ফিরছেন!”

পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জামিন প্রকৃতপক্ষে সম্ভব হয় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে। আদালত জানায়, সিবিআইয়ের মামলায় বিচারপর্ব শুরু হলেই শর্তসাপেক্ষ জামিন দেওয়া যেতে পারে। সেই প্রক্রিয়া অনুযায়ী সাক্ষ্যগ্রহণের প্রথম পর্যায় শেষ হওয়ার পরই আলিপুরের বিশেষ সিবিআই আদালত তাঁর মুক্তির নির্দেশ দেয়। নথি যায় জেল থেকে হাসপাতালে, তারপর প্রশাসনিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা সেরে মুক্তি।

এসএসসি নিয়োগ মামলায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জামিন রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন রসদ জুগিয়েছে বিতর্কে। বিরোধীদের বক্তব্য—আদালতের নির্দেশ মানলেও ন্যায়ের লড়াই এখানেই শেষ নয়। তৃণমূলের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া নেই। তবে ঘাসফুল শিবিরের কিছু নেতা ইতিমধ্যেই ব্যক্তিগত পর্যায়ে বলেছেন, “সময় বলবে সবকিছু।”

আজ নাকতলার বাড়িতে পার্থর জন্য অপেক্ষা শুধু পরিবার বা আত্মীয়দের নয়, রাজনৈতিক মঞ্চও তাকিয়ে আছে তাঁর পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং বানীর দিকে। তিনি কি আবার প্রকাশ্যে আসবেন? রাজনৈতিক কর্মযজ্ঞে নিজেকে যুক্ত করবেন? নাকি নীরব থাকবেন? এইসব প্রশ্ন এখন উথাল-পাথাল করছে রাজ্য রাজনীতিকে।

এখন নজর থাকবে—পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জামিন-পরবর্তী আইনি লড়াই কোন দিকে মোড় নেয় এবং তিনি নিজে কোন পথে হাঁটবেন।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত