দীর্ঘ আড়াই বছরের নীরবতা ভেঙে অর্পিতা মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে মুখ খুললেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। নিয়োগ দুর্নীতি মামলা (SSC Scam)-র মূল অভিযুক্ত প্রাক্তন মন্ত্রী বুধবার এক সাংবাদিক বৈঠকে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন—“লোকের দুটো বউ থাকতে পারে, আমার বান্ধবী থাকতে পারে না!” তাঁর এই উক্তি মুহূর্তে ভাইরাল হয়, নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে ফেরেন তিনি ও অর্পিতা।
২০২২ সালের জুলাই মাসে ইডি-র অভিযানে একসঙ্গে গ্রেফতার হয়েছিলেন পার্থ ও অর্পিতা। অভিনেত্রী-রাজনীতিক অর্পিতার ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয়েছিল ৫০ কোটিরও বেশি নগদ টাকা ও সোনার গয়না। সেই সময় থেকেই দুইজনের সম্পর্ক নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক। কেউ বলেছিলেন কাকা-ভাইঝি, কেউ মামা-ভাগ্নি—তবে আদালতে ভার্চুয়াল শুনানির সময় তাঁদের চোখের ভাষা যে সম্পর্কের গভীরতা প্রকাশ করেছিল, তা ভুলতে পারেনি কেউ।


অর্পিতা মুখোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন, খাটের নিচে রাখা টাকাগুলি পার্থর। অন্যদিকে পার্থ জানিয়েছিলেন, তিনি অর্পিতাকে ভালোভাবে চিনতেন না। কিন্তু তদন্তে উঠে আসে, তাঁরা একাধিকবার বিদেশ সফরে গিয়েছেন, এমনকি একসঙ্গে সন্তান দত্তক নেওয়ার আবেদনও করেছিলেন বলে সূত্রের দাবি।
জেলমুক্তির পর আবার আলোচনার কেন্দ্রে ফিরে আসেন পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee)। অর্পিতা ইস্যুতে তাঁকে ঘিরে ফের প্রশ্ন উঠতে থাকে। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমার জীবনে কে বন্ধু, কে সহচর, সেটা নিয়ে এত বিচার কেন? লোকের দুটো বউ থাকতে পারে, আমার বান্ধবী থাকতে পারে না?”—এই মন্তব্যের মধ্যেই যেন তিনি সমস্ত সমালোচনার জবাব দিয়ে দিলেন এক ঝটকায়।
রাজনৈতিক মহল মনে করছে, তাঁর বক্তব্যে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের দিকে ইঙ্গিত স্পষ্ট। কারণ, সম্প্রতি তৃণমূলে পুনর্বাসন পেয়েছেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন। হয়েছেন এনকেডিএ চেয়ারম্যান, এমনকি শোনা যাচ্ছে, বেহালা পশ্চিম কেন্দ্র থেকে তাঁকেই প্রার্থী করা হতে পারে—যা আগে পার্থের আসন ছিল। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, পার্থের এই মন্তব্য আসলে দলীয় ইঙ্গিতের বিরুদ্ধেই এক প্রতীকী প্রতিবাদ।


অর্পিতা মুখোপাধ্যায় এখনও নীরব। জেল থেকে মুক্তির পরও তিনি কোনও সংবাদমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দেননি। তবে পার্থর এই মন্তব্যের পর তাঁর অবস্থান কী, তা নিয়েও কৌতূহল বাড়ছে। রাজনৈতিক মহলে জল্পনা, দু’জনের সম্পর্ক এখনও বজায় আছে কি না, তা নিয়ে।
অন্যদিকে পার্থ চট্টোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি নিজের ময়দান ছাড়বেন না। “আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছে। কিন্তু আমি ভাঙব না,” বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তৃণমূলের একাংশ অবশ্য বলছে, তাঁর এই ‘প্রেম-বয়ান’ আসলে দলের ভিতরেই বার্তা ছুড়ে দিল।
২০২৬ বিধানসভা ভোটের আগে পার্থর এই বক্তব্যে যে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে, তা বলাই যায়। রাজনীতির পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনের এই খোলামেলা স্বীকারোক্তি অনেকের কাছেই বিস্ময়কর। প্রশ্ন উঠছে—এ কি আত্মরক্ষার কৌশল, না কি আবেগঘন স্বীকারোক্তি?
একদিকে দলীয় অভিমত, অন্যদিকে ব্যক্তিগত বিতর্ক—দু’য়ের মাঝেই পার্থ যেন ফের শিরোনামে। একবার যিনি ‘শিক্ষা মন্ত্রী’ ছিলেন, তিনি আজ শিক্ষা দিচ্ছেন রাজনীতি ও সম্পর্কের বাস্তবতা নিয়ে—“লোকের দুটো বউ থাকতে পারে, আমার বান্ধবী থাকতে পারে না!”







