কলকাতার পার্ক স্ট্রিটে ফের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা। শুক্রবার সকালে শহরের রফি আহমেদ কিদওয়াই রোডের একটি হোটেল থেকে উদ্ধার হয়েছে এক অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের পচাগলা দেহ। সূত্রের খবর, দেহটি উদ্ধার হয়েছিল হোটেল রুমের বক্স খাটের ভিতর থেকে, যা খুলতেই আতঙ্কে চক্ষু চড়কগাছ পুলিশের।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ওই যুবককে খুন করা হয়েছে এবং দেহটি খাটের ভিতর লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। যদিও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছে তদন্তকারী অফিসাররা।


হোটেল সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের ২২ অক্টোবর ওই যুবক কিছু পরিচিতদের সঙ্গে হোটেলটিতে চেক-ইন করেন। তবে ঘরের বুকিংটি তাঁর নামে ছিল না। সঙ্গীরা কিছুক্ষণের মধ্যেই রুম থেকে বেরিয়ে যান। তারপর থেকে ওই যুবককে আর দেখা যায়নি।
হোটেলের কর্মীরা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার থেকে রুম থেকে কোনও সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না। শুক্রবার সকালে রুম খুলতেই তীব্র পচা গন্ধে তারা সন্দেহ করেন কিছু অস্বাভাবিক ঘটেছে। এরপর বক্স খাট খুলে দেহ দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় পার্ক স্ট্রিট থানায়।
পুলিশ এসে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। দেহের অবস্থা দেখে অনুমান করা হচ্ছে, যুবকের মৃত্যু দুই থেকে তিন দিন আগেই হয়েছে। প্রাথমিকভাবে খুনের আশঙ্কা থাকলেও, পুলিশ আত্মহত্যার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না।


এক তদন্তকারী আধিকারিক জানিয়েছেন, “ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে মনে হচ্ছে, যুবককে হত্যা করে দেহ লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। তবে বিস্তারিত তথ্য ময়নাতদন্তের পরই জানা যাবে।”
পুলিশের হাতে এখনও ওই যুবকের পরিচয় মেলেনি। তাঁর সঙ্গে থাকা সঙ্গীদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। অনুমান করা হচ্ছে, পরিচিত কেউই এই হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রফি আহমেদ কিদওয়াই রোডের ওই হোটেলে প্রায়ই বাইরের লোকের আনাগোনা দেখা যায়। তারা দাবি করেছেন, হোটেল কর্তৃপক্ষের আরও নজরদারি থাকা উচিত ছিল।
বর্তমানে পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে এবং ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই মৃত্যু খুন না আত্মহত্যা তা স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে কলকাতা পুলিশ।
এই ঘটনায় পার্ক স্ট্রিট ফের চাঞ্চল্যের কেন্দ্রবিন্দুতে। শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে নতুন করে।







