নজরবন্দি ব্যুরোঃ ভরদুপুরে কলকাতার রাজপথে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় এক মহিলার। পরে নিজেকেও গুলি চালিয়ে শেষ করে দেন ওই নিরাপত্তারক্ষী। আরও অনেকেরই গুলি লেগেছে বলে দাবি প্রত্যক্ষদর্শীদের। কালিম্পঙের বাসিন্দা চোডুপ লেপচা। কাজ করতেন কলকাতা পুলিশের সশস্ত্র বাহিনীর পঞ্চম ব্যাটালিয়নে। তাঁর ছোড়া এলোপাতাড়ি গুলিতেই ঘটে যাবতীয় ঘটনা। ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা।
আরও পড়ুনঃ খুন করে আত্মঘাতী কনস্টেবল, মানসিক অবসাদ বললেন কমিশনার।

সপ্তাহখানেক আগে আরও অনেকের সঙ্গে চোডুপ লেপচাকেও বেকবাগানের কাছে বাংলাদেশ ডেপুটি হাই কমিশনের আউটপোস্টের নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্বে বহাল করা হয়েছিল। তিনিই আচমকা গুলি চালাতে থাকেন। অ্যাপনির্ভর মোটরবাইকে করে যাচ্ছিলেন হাওড়া দাসনগরের বাসিন্দা রিমা সিংহ। আচমকাই ছুটে আসা গুলি তাঁর মাথা ভেদ করে বেরিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই নিহত হন তিনি। বাইক চালক বসিরের পিঠে লাগে অন্য একটি গুলি।

ভয়ে আতঙ্কে আর প্রবল যন্ত্রনাকে সাথে নিয়ে দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে বাইক নিয়ে ছোটেন বশির। পার্ক সার্কাস মোড়ে পুলিশ দেখতে পেয়ে দাঁড় করান তাঁকে। তখন পিঠ থেকে রক্ত ঝরছে অবিরত। অবস্থা দেখে মুহূর্তে ভিড় জমে যায়। পুলিশ তড়িঘড়ি বশিরকে নিয়ে যায় ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে এসএসকেএমের ট্রমা কেয়ারে পাঠানো হয়।
গুলি খেয়েই প্রাণপণে ছোটালেন বাইক, ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা বশিরের।

হাসপাতাল সূত্রে খবর, এলোপাথাড়ি গুলি চালনার ঘটনায় আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের বাসিন্দা মহম্মদ সরফরাজ ও কলিন স্ট্রিটের বাসিন্দা বশির আলম নামে দু’জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বশিরের পিঠে গুলি বিঁধে রয়েছে। বাইক চালক বসির তাঁর ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। ১৩ নম্বর লোয়ার রেঞ্জে আচমকাই একটি গুলি এসে লাগে তাঁর পিঠে। তার পর পিছনের আরোহী পড়ে যান বাইক থেকে। পরে জানতে পারেন তিনি আর বেঁচে নেই।



